• ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সোমবার বিকাল ৪:৩৯
S M Tajul Islam এপ্রিল ১৬, ২০২৬

তরুণদের প্রতি পাঁচজনে একজন ‘মডি’ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত

ঢাকা : দেশে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজন ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং’ (মডি) নামের বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। ১০০ জন রোগীর নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে এ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান।

তিনি বলেন, তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ প্রচলিত টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন না; বরং তাদের মধ্যে ‘মডি’ নামে পরিচিত জিনগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ডায়াবেটিসের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু জিনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা মডি ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব জিনগত পরিবর্তন মূলত তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

ডা. মাশফিকুল হাসান আরও বলেন, এই গবেষণার ফলাফল প্রাথমিক ও অনুসন্ধানমূলক; চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যায় ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে এবং বিদ্যমান নির্ণয় পদ্ধতিগুলো পুরোপুরি উপযোগী নাও হতে পারে।

গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ডা. মাশফিকুল হাসান বলেন, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে গবেষণালব্ধ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশে উন্নত রোগীসেবা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, ‘মডি’ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। তাই সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় না হলে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সেমিনারে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, জিনগত পরিবর্তন আছে ও নেই এমন রোগীদের ক্লিনিক্যাল উপসর্গে পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হওয়ায় সঠিকভাবে ‘মডি’ শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এ কারণে তারা জেনেটিক পরীক্ষা ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের জেনেটিক গবেষণা অত্যন্ত জটিল হলেও রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের গবেষণা আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *