• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বৃহস্পতিবার রাত ৪:৫৪
S M Tajul Islam এপ্রিল ১৫, ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : চলমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এশিয়া জিরো ইমিশন কমিউনিটি প্লাস (এজেডইসি) অনলাইন সামিটে অংশ নিয়ে তিনি এই বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্রুত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং ব্যালেন্স অব পেমেন্ট স্থিতিশীল রাখতে ২ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করতে চায়। এ বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, সব দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। কোনো দেশই একা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। এজন্য সুসংগঠিত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কিছু স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিসের সময় ও কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি আমদানি তদারকি এবং অপচয় রোধে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ।’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান এই জ্বালানি সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। সেই সময়কার সংকট অনেক দেশের উন্নয়ন থমকে দিয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, বর্তমান সংকট সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলছে।’

সম্মেলনটি আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।

অনলাইন এ সামিটে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *