• ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বুধবার রাত ৮:০৬
S M Tajul Islam মার্চ ২৫, ২০২৬

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সাহায্য করবে সুইজারল্যান্ড

ঢাকা : বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সুইজারল্যান্ড সরকার। একই সঙ্গে দেশটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বাড়াতেও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অর্থ পাচার রোধ, ডিজিটাল প্রতারণা দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূতও তাঁর নতুন পদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা দেশে প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই। দেশের সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ যেন না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

বিগত আমলের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় বল প্রয়োগের কাজে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এ সময় পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে জানতে চান এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, সংসদ ও রাজপথে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অপরিহার্য।

সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত (১৬-১৭ মার্চ ২০২৬) ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল প্রতারণা বা স্ক্যাম। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রদূতও ডিজিটাল প্রতারণাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন এবং অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ সামান্য মাত্রায় থাকতে পারে, তবে তা কখনো সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি। সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক। মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সামগ্রিক সংস্কার খাতে সুইজারল্যান্ড তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পারে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ (UNODC)-এর দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *