• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ শুক্রবার বিকাল ৫:৪৮
S M Tajul Islam মে ১, ২০২৬

মহান মে দিবস ও সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার: সময়ের দাবি

ঢাকা : মে দিবস বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক। ১৮৮৬ সালের শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে—ন্যায্য অধিকার কখনো অনায়াসে আসে না, সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তা অর্জন করতে হয়। আজকের এই দিনে আমরা শুধু শ্রমিকদের কথা বলি না, বরং সমাজের প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলি—যার মধ্যে সাংবাদিক সমাজও অন্যতম।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে গত ১৭ বছরে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ৬৭ জন সাংবাদিক জীবন উৎসর্গ করেছেন। তারা ছিলেন সত্যের সৈনিক, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কলমধারী যোদ্ধা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন আজও নিশ্চিত হয়নি। তাদের পরিবার আজও অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে মহান মে দিবসে আমাদের প্রথম ও প্রধান দাবি—
🔹 স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিহত ৬৭ জন সাংবাদিকের পরিবারের জন্য আজীবন মাসিক সম্মানী প্রদান

🔹 তাদের পরিবারের জন্য চিকিৎসা, শিক্ষা ও আবাসনসহ সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা

🔹 শহীদ সাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও স্মরণে বিশেষ দিবস ঘোষণা

একইসাথে মফস্বল সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়ন এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি। রাজধানীকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে থেকে মফস্বল সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন, কিন্তু তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সম্মানজনক পারিশ্রমিক বা সামাজিক সুরক্ষা।

তাই আমরা নিম্নোক্ত দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরছি—
🔸 মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণ

🔸 ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য জীবন বীমা ও স্বাস্থ্য বীমা চালু

🔸 সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা

🔸 প্রতিটি জেলায় সাংবাদিকদের জন্য আবাসন বা হাউজিং সুবিধা

🔸 তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ

🔸 সাংবাদিক নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন

মে দিবস আমাদের শুধু অতীতের সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয় না, বরং বর্তমানের দায়িত্ব ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণে অনুপ্রাণিত করে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ—তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে, গণতন্ত্র দুর্বল হবে।
আজকের এই দিনে আমরা দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই—
সাংবাদিকদের অধিকার মানে গণতন্ত্রের অধিকার।

শহীদ সাংবাদিকদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। মহান মে দিবসে সকল শহীদ শ্রমিক ও সাংবাদিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করছি।

✍️ শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
মহাসচিব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন-বিআরজেএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *