• ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ শুক্রবার দুপুর ১২:০৯
S M Tajul Islam মার্চ ৪, ২০২৬

ঋণ নিয়ে যারা বিনিয়োগ করেনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দরকার

ঢাকা : শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারস অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসি) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ বলেছেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় ফিরে আসবে না। বর্তমানে গড় ঋণখেলাপির হার ৩৬ শতাংশ ও সরকারি ব্যাংকগুলোতে তা প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই টাকাগুলো কারা নিয়েছে? যারা টাকা নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে অর্থনীতি ভালো জায়গায় আসবে না।

বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট : প্রাইয়োরেটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্যা শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক রাউন্ড টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজীজ রাসেল, ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম।

(ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এ কে আজাদ বলেন, সরকার বর্তমানে ব্যাংক থেকে ৩২.১৯ শতাংশ ঋণ নিচ্ছে, সেখানে প্রাইভেট সেক্টরের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬.১ শতাংশ। মানে আমার জন্য টাকা নাই বা থাকলেও আমি নিতে পারছি না। গ্যাস কানেকশন নাই। সরকারের মোট ঋণের ৫৮ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে বেতন, সুদ ও ভর্তুকিতে যা নন-প্রোডাক্টিভ খাতে। রাজস্ব আদায় কমছে। ছয় মাসেই ৩৬ হাজার কোটি টাকা টার্গেটের চেয়ে কম রাজস্ব এসেছে। গত অর্থ বছরের জিডিপি ৪.২২ থেকে ৩.৯৭ নেমে এসেছে। বিনিয়োগ নাই, ভ্যাট নাই, ইনকাম ট্যাক্স নাই, কাস্টম ডিউটি নাই তাহলে উন্নয়ন হবে কীভাবে?

এনার্জিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে এ কে আজাদ বলেন, হাজার হাজার গ্যাস সংযোগের আবেদন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তিতাসে পড়ে আছে, কিন্তু নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। গ্যাস না পেয়ে শিল্প চালাতে আমাকে সিএনজি থেকে গ্যাস নিয়ে বয়লার চালাতে হয়, ডাবল দাম দিয়ে। সরকার যদি চুলার গ্যাস বন্ধ করে এলপিজিতে দেয়, তাহলে সেই গ্যাস শিল্পে দেওয়া যায়।

তিনি দাবি করেন, ১০ শতাংশ গ্যাস চোরাই লাইনে যাচ্ছে এবং গুড গভর্ন্যান্সের বিকল্প নেই। আইনের শাসন যথাযথ প্রয়োগ করতে না পারলে, সরকারি ব্যয় কমাতে না পারলে সংকট কাটবে না।

সরকারি ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দিয়ে এ কে আজাদ বলেন, এতগুলো মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর আদৌ দরকার আছে কি না তা পর্যালোচনার জন্য কমিশন করা উচিত।

সংসদ সদস্য থাকাকালে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন উল্লেখ করে এ কে আজাদ বলেন, ৩০০-৫০০ এমপির জন্য আলাদা নিরাপত্তা এই খরচ সাধারণ মানুষ বহন করছে। যেখানে মানুষের তেল-চাল কেনার টাকা নাই, সেখানে এসব ব্যয় অপ্রয়োজনীয়।

এ কে আজাদ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো বিনিয়োগে ব্যাপক প্রণোদনা দিচ্ছে। যেমন ভারত-এর কর্নাটক, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, গুজরাটে বিনিয়োগ করলে সরকার ক্যাপিটাল মেশিনারির জন্য ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেয়। নারী কর্মী নিয়োগ দিলে পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসিক ভর্তুকি দেয়, জমি ও ইউটিলিটি বিলেও সাবসিডি দেয়। ‌অথচ আমি ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে, গ্যাস ছাড়া, ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেয়ে, ডিজেল খরচ করে কীভাবে ভায়াবল হবো।

শুধুমাত্র ব্যাংকের সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব আহরণ না হলে ও কর্মসংস্থান না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্প-কারখানা চালু হলেই রাজস্ব বাড়বে, জিডিপি বাড়বে, কর্মসংস্থান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *