NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ, সামাজিক অবক্ষয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
মোঃ মামুন:
NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ, সামাজিক অবক্ষয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির প্রতিবাদে ৮ই জানুয়ারী ২০২৬, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মোবাইল ব্যবসায়ী ও সচেতন ভোক্তা সমাজ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান সোহেল, আবু সাঈদ, বাবু (চট্টগ্রাম), খন্দকার আক্তার হামিদ পবন, মোঃ গোলাম মাহফুজ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খন্দকার আক্তার হামিদ পবন। তিনি বলেন, আমরা এখানে সমবেত হয়েছি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে। সরকার NEIR সিস্টেম চালু করার যে তোড়জোড় করছে, তা কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের পেটে লাথি মারা এবং দেশের অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় কিছু কর্পোরেট দালালের হাতে তুলে দেওয়ার এক নীল নকশা । ১. সামাজিক অবক্ষয় ও কর্মসংস্থানের সংকট: সরকার কি ভেবে দেখেছে, এই সিস্টেম চালু হলে এই খাতের সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষ যখন রাতারাতি বেকার হয়ে পড়বে, তখন তাদের ভবিষ্যৎ কী? বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের তীব্র সংকটের এই সময়ে, এই দক্ষ জনশক্তি যখন কর্মহীন হয়ে পড়বে, তখন তাদের অপরাধের পথে পা বাড়ানো থেকে কে রক্ষা করবে? এই খাতের কর্মীরা যখন ঋঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়বে, তখন তারা চুরি, ডাকাতি বা মাদকের মতো পথে পা বাড়াবে না—তার গ্যারান্টি কি সরকার দেবে? বেকারত্বের অভিশাপে আমাদের মা-বোনরা যখন অনৈতিক বা সামাজিক অবক্ষয়মূলক কাজে বাধ্য হবে, সেই দায়ভার কি নীতিনির্ধারকরা নেবেন? সামাজিক বিশ্লেষকরা কি সরকারকে এই ভয়াবহ পরিণতির কথা জানাননি? ২. অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও ঋণের বোঝা : মোবাইল ব্যবসায়ী কমিউনিটির ওপর আজ ঋণের পাহাড়। অনেক উদ্যোক্তা এনজিও থেকে লোন নিয়েছেন, কেউ কিস্তিতে ঘর সাজিয়েছেন, কেউ বা বোনের গয়না বন্ধক রেখে ব্যবসায় পুঁজি দিয়েছেন। অনেকে মাসিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে স্বজনদের বিদেশে পাঠিয়েছেন ঋণের টাকায়। NEIR বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে এই মানুষগুলো যখন ঋণের দায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে, তার দায়ভার কে নেবে? অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ ছাড়াই কেন এমন একটি আত্মঘাতী নীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারের মূল দায়িত্ব জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়া। আজ আমরা আমাদের লক্ষ লক্ষ পরিবারের সেই জান-মালের গ্যারান্টি চাই। ৩. কর্পোরেট মনোপলি ও গোপন অর্থায়ন : গুটিকয়েক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের অতি মুনাফার লোভে এই অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন—এই প্রফিটের টাকা কি কেবল তাদের পকেটেই যাচ্ছে, নাকি এর পেছনে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর কাছে অর্থায়নের কোনো গোপন আঁতাত রয়েছে? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। ৫. ডি-রেজিস্ট্রেশন এবং চোরাই ফোনের সিন্ডিকেট : ডি-রেজিস্ট্রেশন একটি চরম জটিল প্রক্রিয়া। এর ফলে সাধারণ ভোক্তা যদি ফোন হারায় বা চুরি যায়, তবে সে আর কখনোই তা ফিরে পাবে না। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে—এই নীতির পেছনের কুশীলবরা কি বাংলাদেশ থেকে চোরাই ফোন অন্য দেশে পাচারের কোনো বড় আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত? আমরা এর স্বচ্ছ তদন্ত চাই। ৫. অযৌক্তিক প্রযুক্তিগত অজুহাত : বর্তমানে বাংলাদেশে সিম কার্ড এবং আইএমইআই (IMEI) ডাটা সরকারের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে যায়। এই প্রযুক্তি বহু বছর ধরে চালু আছে। তাহলে নতুন করে এই জটিল এবং জনভোগান্তিমূলক NEIR নীতির প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এটি কি কেবল জনরোষ সৃষ্টির একটি ষড়যন্ত্র? প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আমরা নির্যাতিত, আমরা প্রতারিত। এই প্রতারণা কেবল ব্যবসায়ীদের সাথে নয়, পুরো জাতির সাথে করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে ছাত্র সমাজ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ ভোক্তারা আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের শহীদ ওসমান খাতি ভাইয়ের সেই ঐতিহাসিক বাণী মনে করিয়ে দিতে চাই: “এখন আর প্রতিবাদ নয়, এখন থেকে হবে শুধু প্রতিরোধ।” যদি অনতিবিলম্বে এই দেশবিরোধী ও জনবিরোধী NEIR সিস্টেম বাতিল করা না হয়, তবে আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে এমন কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবো, যার পরিনাম শুভ হবে না।





























