• ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সোমবার রাত ১:৫৪
S M Tajul Islam জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

“গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা, আল-কুরআন বিরোধী সকল সংবিধান এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করুন- আমীর, ইসলামী সমাজ।

আজ ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ইং, শনিবার, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত, ‘ইসলামী সমাজ’ এর কেন্দ্র: কুমিল্লার দাউদকান্দি থানাধীন, কুশিয়ারা খানবাড়ী বালুর মাঠে- “গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা, আল-কুরআন বিরোধী সকল সংবিধান এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে”— শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচিতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষের সমাগম শুরু হয়।
ঠিক সকাল ১০টায় আলকুরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে “শান্তিপূর্ণ অবস্থান” কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। অবস্থান কর্মসূচির সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন ‘ইসলামী সমাজ’ এর সম্মানিত আমীর, হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর সাহেব। তিনি অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষকে ঈমান ও ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, মানুষের কল্যাণ ও প্রয়োজনে সমাজ এবং রাষ্ট্র। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংবিধান। পবিত্র আল-কুরআন’ই মানব জাতির জন্য কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র সংবিধান। আল-কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা- আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র ব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যবস্থা মেনে চললে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে দুনিয়ার জীবনে নেমে আসবে বিভিন্ন ধরনের আযাব-গজব, চরম দুর্ভোগ ও অশান্তি আর আখিরাতের জীবনে রয়েছে নিশ্চিত জাহান্নাম। সুতরাং, গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা ও মতবাদ’ই ইসলাম বিরোধী ব্যবস্থা তথা জাহিলিয়্যাত- যা মূলতঃ দুনিয়ায় অকল্যাণ ও অশান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নামের পথ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশেরও মূল সমস্যা- প্রধান সমস্যা গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে মানব রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান। মূল রোগাক্রান্ত রেখে গাছের পরিচর্যা যেমন নিষ্ফল ঠিক এ সমস্যার মূলোৎপাটন ব্যতীত কোন সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট ও নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক পরিবর্তন হলেও জাতীয় জীবনের সমস্যাবলীর সমাধান হবে না; বরং সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান পরিবর্তন করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আল-কুরআন নির্দেশিত সংবিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী শরীয়াহর আইন-বিধান বাস্তবায়িত হলেই সকল সমস্যার সমাধান হবে। এ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় ঈমানদারগণের নিজ অর্থ (মাল) ও সময় (জান) কুরবানীর মাধ্যমে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আল-কুরআন নির্দেশিত ইসলামী শরীয়াহ্র আইন-বিধান প্রতিষ্ঠিত হলেই সকল মানুষের জীবনে সুশাসন, ন্যায় বিচার ও ইনসাফ কায়েম হবে, সকল ধর্মের মানুষ যার যার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে। ফলে সকলের কাঙ্খিত দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে।
এ লক্ষ্যেই ‘ইসলামী সমাজ’ সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আল-কুরআন নির্দেশিত সংবিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি “গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা, আলকুরআন বিরোধী সকল সংবিধান এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহাসত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আন্তরিক আহবান জানান।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *