ক্রেতা সেজে তেল কিনতে যান ডিজিএফআইয়ের তিন সদস্য
গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালোবাজারে ৩০০ টাকা লিটারে তেল বিক্রির অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় আট লিটার অবৈধ মজুত করা অকটেন জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাঠগড়া হাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পাল এই জরিমানা করেন।
তেল মজুতকারী ওই শিক্ষকের নাম আব্দুল মতিন মিয়া। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলার মাঠের হাট আব্দুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাটগড়া হাটের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের সুযোগ নিয়ে শিক্ষক আব্দুল মতিন বাসায় পেট্রোল ও অকটেন মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করে আসছেন। দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে ওই শিক্ষকের কাছে তেল কিনতে যান ডিজিএফআইয়ের তিন সদস্য। তেল কিনতে গিয়ে কৌশলে গোয়েন্দা সদস্যরা মোটরসাইকেল ঠেলে কাঠগড়া এলাকায় পৌঁছে তেলের সন্ধান করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষক মতিনের কাছে বেশি দামে তেল পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দা সদস্যরা প্রথমে প্রতি লিটার ৩০০ টাকা দামে ৫ লিটার অকটেন ক্রয় করেন।
এরপর এক পর্যায়ে তেলসহ ওই শিক্ষককে আটক করে খবর দিলে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার রোমেন পাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত যান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই শিক্ষককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় বিক্রির উদ্দেশে বোতলজাত করা আট লিটার অকটেন জব্দ করা হয়। পরে তাকে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পাল বলেন, ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কালোবাজারে তেল বিক্রি করছেন। এক পর্যায়ে তারা ক্রেতা সেজে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে অকটেন ক্রয় করেন এবং পরে মজুত করা তেলসহ আটক করেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অকটেন জব্দ করা হয় এবং তার কাছ থেকে সতর্কমূলক ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।





























