• ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ শুক্রবার রাত ৩:০৯
S M Tajul Islam মার্চ ১৯, ২০২৬

রাজধানীবাসী এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত

ঢাকা : আর মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীবাসী এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত। শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাত, সবখানে মানুষের ভিড়। তবে এই ভিড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে শিশুদের মধ্যে।

পোশাক কেনা অনেক পরিবারের শেষ হয়ে গেলেও এখন শুরু হয়েছে জুতা, ম্যাচিং কসমেটিকস আর মেহেদি ঘিরে নতুন আবদারের পালা।

শিশুদের কাছে ঈদ মানে শুধু নতুন জামা নয়, বরং পুরো একটি সাজের গল্প। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা, রঙিন চুলের ব্যান্ড, ছোট ব্যাগ, গ্লিটার আইটেম, খেলনা কসমেটিকস—এসব ছোট ছোট জিনিস মিলিয়েই তাদের ঈদের স্বপ্ন পূর্ণতা পায়। ফলে দোকানগুলোতে এখন সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে এই সম্পূরক পণ্যগুলো ঘিরে।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমল এলাকায় দেখা গেল, অনেক পরিবার ইতোমধ্যে পোশাক কেনা শেষ করলেও এখন ব্যস্ত জুতা মিলিয়ে দেখায়। আট বছরের তানিশা গোলাপি ফ্রকের সঙ্গে মানানসই জুতা খুঁজছে। দোকান থেকে দোকানে ঘুরে সে বারবার বলছে, ‘এই জুতাটা না নিলে আমার ঈদ হবে না, আমাকে রাজকন্যার মতো লাগবে না!’

তার মা শবনম আক্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ড্রেস তো কিনে শেষ করেছি, এখন বাকি সব। এখন জুতা, হেয়ার ব্যান্ড আর ছোট ছোট কসমেটিকস চাইছে।

না দিলে কান্নাকাটি শুরু করে, তাই আর না করতে পারি না!’
এই আবদার এখন ঈদের বাজারের বড় অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য খেলনা কসমেটিকস, যেমন লিপস্টিক সেট, নেইল পলিশ, ব্লাশ, গ্লিটার আইটেম—এসবের চাহিদা অনেক বেড়েছে। শিশুরা এগুলো ব্যবহার করে বড়দের মতো সাজতে চায়, আর সেই আনন্দই তাদের কাছে ঈদের আসল রং।

অন্যদিকে, নিউ মার্কেট এলাকায় দেখা গেল মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ভিড়। অনেকেই পোশাক কেনা শেষ করে এখন জুতা ও অন্যান্য জিনিস মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কেউ বলছেন জুতার রং ঠিকমতো মিলছে না, কেউ আবার বলছেন ব্যাগ না হলে পুরো সাজ অসম্পূর্ণ।

দশ বছরের রাকিব তার মাকে নিয়ে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছে। তার একটাই দাবি—‘এই জুতাটাই লাগবে, না হলে নতুন জামা পরেও ঈদের আনন্দ হবে না।’ তার মা ক্লান্ত হলেও হাসিমুখে বলেন, ‘বাচ্চাদের খুশির জন্য যতটা পারি করছি।’

শিশুদের এই শেষ মুহূর্তের আবদারে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মেহেদি। ঈদের আগের রাত বা শেষ বিকেলে ছোট ছোট মেয়েরা মায়ের হাত ধরে মেহেদির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ ফুলের ডিজাইন চায়, কেউ আবার নাম লিখে দেওয়ার আবদার করে। মেহেদির রং তাদের কাছে ঈদের এক বিশেষ আনন্দ, যা তাদের সাজকে সম্পূর্ণ করে তোলে।

একজন মেহেদি শিল্পী জানান, শেষ কয়েক দিনে শিশুদের ভিড় অনেক বেড়েছে। আগে শুধু বড়রা আসত, এখন ছোটরাও নিজেরাই ডিজাইন ঠিক করে দেয়, তিনি বলেন।

ফুটপাতের দোকানগুলোতেও একই চিত্র। কম দামের জুতা, রঙিন হেয়ার ব্যান্ড, ছোট ব্যাগ, খেলনা কসমেটিকস আর মেহেদি—সব মিলিয়ে এক রঙিন উৎসবের বাজার তৈরি হয়েছে। নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এখানেই তুলনামূলক কম খরচে শিশুদের আবদার পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

এক অভিভাবক বলেন, ড্রেস তো হয়ে গেছে, এখন বাচ্চারা জুতা আর মেহেদি ছাড়া খুশি হয় না। ঈদ মানে তো ওদের হাসিই আসল।

সব মিলিয়ে রাজধানীর ঈদের বাজার এখন শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং শিশুদের স্বপ্ন, আবদার, হাসি আর রঙিন আনন্দের এক মিলনমেলা। পোশাকের পর এখন জুতা, কসমেটিকস আর মেহেদির রঙে পূর্ণতা পাচ্ছে ঈদের উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *