• ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার রাত ৯:৫৩
S M Tajul Islam মার্চ ১৭, ২০২৬

নদীর নাব্যতা না ফেরালে খাল খননের সুফল মিলবে না: জামায়াত আমির

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রধান নদীগুলোর প্রাণ ও নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে এই খাল খনন থেকে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না।

সোমবার (১৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ একসময় কার্যত নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল।

নদীগুলো সচল ছিল। নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিক্ষেত্রে নদী ছিল বিশাল নিয়ামক শক্তি। তার পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ, জমির উর্বরা সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে পানিপ্রবাহ সঠিক থাকার কারণে ঘন ঘন বন্যা এবং এই জনিত দুর্ভোগের প্রাদুর্ভাব কমই হতো।

নদীগুলোর বর্তমান দুরবস্থার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে একদিকে ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ, অন্যদিকে প্রধান প্রধান নদীগুলোসহ সব গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী, খাল এবং বিল ভরাট হওয়ার ফলে একসময়ের স্রোতস্বিনী নদীগুলো এখন ভরা মৌসুমে পানি ধারণ করতে পারে না।

ফলে অকাল বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শুকনো মৌসুমে মরুভূমির রূপ ধারণ করে। বর্ষায় পানির প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জামায়াত আমির বলেন, এমনকি প্রধান প্রধান শহর ও নগরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে যেখানে নৌ-চলাচল ও কৃষির জন্য পানির প্রয়োজন হয় সেখানে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করার মতো পানি থাকে না।

অতএব দেশ বাঁচাতে হলে প্রধান প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিং সম্পন্ন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অতীতের সরকারগুলোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, সরকারের উচিত হবে দেশ বাঁচানোর স্বার্থে নদ-নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে- অতীতে ড্রেজিংয়ের নামে, নদী শাসনের নামে, নদী সংস্কারের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। কারণ লুটপাটতন্ত্র ছিল তখন শাসকদের মূলনীতি।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার তাগিদ দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই।

দেশবাসীর আমানত সর্বোত্তম পন্থায় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজে লাগানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার মূলত দেশবাসীর পক্ষে সব কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপকের ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্ট্যাটাসের শেষে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাই। তবে খাল খননের সুফল তখনই পাওয়া যাবে— যখন নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, নাব্যতা ফিরে পাবে। অন্যথায় খাল খনন থেকেও জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *