• ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার বিকাল ৫:৩৫
S M Tajul Islam ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

বন্ড সুবিধার আওতায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা : বন্ড সুবিধার আওতায় টাইলস আমদানি করে তা রপ্তানি না দেখিয়ে জাল কাগজপত্র সৃজনের মাধ্যমে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সহযোগী ব্যক্তি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন, হাসান শরিফ, মো. জিয়া উদ্দিন, খাজা শাহাদতউল্লাহ, মো. জিয়াউর রহমান, আদিল রিজওয়ান, মো. খায়রুজ্জামান, মো. শহিদুল হক, হাসান শাহীন, দীপান্বিতা বড়ুয়া ও সুরীত বড়ুয়া। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সালে বন্ড সুবিধার আওতায় নিবন্ধিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় অবস্থিত। দুদকের অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, ২০১৩ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে এইচএস কোডে আনফিনিশড টাইলস ঘোষণা দিয়ে মোট ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ টন সম্পূর্ণ প্রস্তুত টাইলস আমদানি করা হয়।

আমদানি করা একটি চালান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্থগিত করে। পরবর্তী সময়ে নমুনা পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ মতামত, কাস্টমস ট্যারিফ ব্যাখ্যা ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা পর্যালোচনায় পণ্যগুলো ফিনিশড টাইলস বলে প্রতীয়মান হয়। বন্ড নীতিমালা অনুযায়ী আমদানি করা কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে শতভাগ রপ্তানির বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে রপ্তানি প্রদর্শন করে।

তবে সংশ্লিষ্ট অফডক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ডক ব্যবহার করে কোনো রপ্তানি সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া দাখিল করা বিল অব লেডিং যাচাই করে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টরা জানায়, এসব নথি তাদের ইস্যু করা নয়। ফলে রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র জাল বলে প্রতীয়মান হয়। চালান পরীক্ষক দুই কাস্টমস কর্মকর্তাও জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা এসব চালান পরীক্ষা করেননি এবং প্রদর্শিত স্বাক্ষরও তাদের নয়। বন্ড কমিশনারেটের অডিট প্রতিবেদনেও মজুদ গরমিল ও স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা ৪৭ পয়সা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *