• ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সোমবার রাত ১১:৫২
S M Tajul Islam ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে সংসয় সুজনের

ঢাকা: রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে ‘প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি’ হিসেবে দেখছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এমনকি নারী প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার অনেক দল শুরুতেই লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সুজন আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য মন্তব্য করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ প্রমুখ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুজন সম্পাদক বলেন, এবারের ইশতেহারে কিছু বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। কোনো দল নীতি-নৈতিকতার ওপর জোর দিয়েছে, আবার কোনো দল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে সব ইশতেহারেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কেবল ভালো কথা যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রান্তিক মানুষ ও প্রবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

ড. বদিউল বলেন, ইশতেহারে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হলেও নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক দলই সে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। কোনো কোনো দল একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি, আবার কেউ পাঁচ শতাংশের কম দিয়েছে। এটি ইশতেহারের প্রাথমিক অঙ্গীকারেরই লঙ্ঘন।

সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়, বড় দলগুলোর ইশতেহার অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাসী। এগুলোর মধ্যে বিএনপির এক কোটি কর্মসংস্থান, ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

কিন্তু এসব বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তার উৎস সম্পর্কে ইশতেহারে কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। কর-জিডিপি অনুপাত না বাড়িয়ে এসব লক্ষ্য অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইশতেহার হলো একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সুজন প্রতি ৬০ থেকে ১০০ দিন অন্তর অন্তর সরকার ইশতেহার কতটুকু পালন করছে তা পর্যালোচনা করে জনগণকে জানাবে। যদি কোনো দল অঙ্গীকার পালনে ব্যর্থ হয়, তবে প্রয়োজনে নাগরিকরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

সুজন মনে করে, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো ও উন্নয়ন মডেল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিজয়ী দল ইশতেহার কতটুকু বাস্তবায়ন করছে, তার ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *