‘শুধু একটা নির্বাচন দিয়ে কিন্তু গণতন্ত্র আসবে না’: তথ্য উপদেষ্টা
ঢাকা : সাংবাদিকতার প্রশ্নে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্টস অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত গণমাধ্যম উৎসব-২০২৬-এ আহ্বান জানান তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আমি আসলে দুই মাসও কাজ করার সময় পাচ্ছি না। তারপরও একটি খসড়া করার চেষ্টা করেছি। এটি আরও উন্নত করা হবে, পরিবর্তন করা হবে। উদ্বেগের কিছু আছে বলে আমি মনে করছি না। আরেকটি বিষয় হলোআপনাদের নিজেদের কারণেই যেন আপনারা নিজেরা বিপদে না পড়েন। সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার স্বার্থে আমার হয়তো আর ছয় কর্মদিবস আছে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিছু করার প্রয়োজন হয়, আমাকে জানাবেন। আর কোথাও যদি সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির মুখে পড়েন, যেটাকে আপনারা নিরাপত্তাহীনতা মনে করছেন, সেটিও আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আমার সাংবাদিকতার কাজটা করব। এটা যদি আমরা করতে পারি একটা পেশাদার গোষ্ঠী হিসেবে, তাহলে আমাদেরকে দমন-পীড়ন করার ক্ষেত্রে যেকোনো সরকার দুইবার ভাববে। দুইটা আইন ড্রাফট (খসড়া) করা হয়েছে। খসড়া মন্ত্রণালয় নিজে নিজে করে ফেলছে। এটা মনে করার কোনো সুযোগ নেই। খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় মতামতের জন্য দিয়েছে। আপনারা সবাই মতামত দিবেন। মতামত দেওয়ার পরে এটা যেভাবে পরিবর্তন করা দরকার, আমরা যদি যুক্তিসংত মনে করি পরিবর্তন করব। এই যে বললেন তাড়াহুড়া করে করা হয়েছে। তাড়াহুড়াটা কোথায় হলো ভাই? ৫৪ বছরে তো মিডিয়া কমিশন পান নাই। ৫৪ বছরে তো দেশের সম্প্রচার অধ্যাদেশ পান নাই। ৫৪ বছর অপেক্ষা করার পরেও মনে হইলো যে তাড়াহোড়া হচ্ছে। এখন যদি আমরা মনে করি সকল প্রক্রিয়া আমরা সম্পন্ন করতে পারবো না। তাহলে প্রক্রিয়া পরের সরকার করবে। আমাদের তো এখানে নাম কামানোর দরকার নাই। আমাদের যার যার ক্ষেত্রে নাম আছে। তো কিন্তু আমরা একটা খসড়া যদি চূড়ান্ত করে দিয়ে যেতে পারি। যদি পাশ করাতে পারি খুব ভালো। না পারলে খসড়া যদি চূড়ান্ত করাতে পারি সবার মতামত নিয়ে তাহলে আপনারা অন্তত খসড়টা নিয়ে আগামী সরকারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘শুধু একটা নির্বাচন দিয়ে কিন্তু গণতন্ত্র আসবে না। সেখানে সংবাদপত্রের একটা অনেক বড় ভূমিকা আছে। তারা তো গণতন্ত্র রক্ষার একটা স্তম্ভ। সাংবাদিকরা একটা স্তম্ভ, সাংবাদিকতা একটা স্তম্ভ। আপনারাই নিজেরা বললেন যে পটপরিবর্তনের পরে আবার আনুগত্য পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে কেমন করে আপনারাও উত্তোরণ করবেন। পেশাগত উত্তম চর্চা কি, এগুলো আপনাদেরকে ঠিক করতে হবে। ইন্টিমিডিয়েট করে কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। জাতীয় পর্যায় কেন সেটা আমরা করব? একটা গণতান্ত্রিক সমাজে আমরা কথা বলব। আমরা একজনের সঙ্গে কথা বলব। অলওয়েজ মেটেনওয়ে ট্রাফিক। আপনাদের যা প্রয়োজন আমাদেরকে বলবেন। আমাদের যা প্রয়োজন আপনাদেরকে আমরা বলব।’
গণমাধ্যম উৎসব-২০২৬-এ আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুল রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য গাজী আনোয়ার, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রমুখ।





























