• ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বৃহস্পতিবার রাত ৩:৫০
S M Tajul Islam জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

অবিলম্বে গণমাধ্যমসেবীদের জন্য ১০ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার দাবি

ঢাকা : অবিলম্বে গণমাধ্যমসেবীদের জন্য ১০ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন -বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে। এছাড়া এখনও যেসব প্রতিষ্ঠানে ৯ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ কার্যকর করা হয়নি সেখানে বকেয়াসহ ৯ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন সংগঠন দু’টির নেতৃবৃন্দ।

আজ বুধবার বিএফইউজে’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডিইউজে’র সভাপতি মো.শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এক বিবৃতিতে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, বাসা ভাড়া বৃদ্ধিসহ দৈনন্দিনের ব্যয় নির্বাহে সাধারণ মানুষের মতো সাংবাদিকরা দিশেহারা। প্রায় এক দশক আগে সাংবাদিকদের জন্য ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ড নানা কৌশলে অনেক সংবাদমাধ্যম বাস্তবায়ন করছে না। বৈষম্যের শিকার সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে ১০ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার বিষয়টি বার বার এড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সাংবাদিক-ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলনে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গত দেড় বছর দফা দফায় দাবি জানানোর পরও অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি এবং সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দঃখজনক হলেও সত্য, প্রফেসর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের গণমাধ্যম বান্ধব দাবি করলেও এখনো পর্যন্ত সাংবাদিকদের কল্যাণে কোনো একটি কাজও করে নি। উপরন্তু পতিত স্বৈরাচার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেভাবে তোষণের নীতি অনুসরণ করেছিল, অন্তর্বর্তী সরকারও ঠিক তাদের মতোই আমলা তোষণের পথ ধরেছে।

বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, দাবি অনুযায়ী সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, গণমাধ্যমের জন্য গঠিত কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন এবং বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করে সরকার মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে অতীতের মতো আমলাদের মোটাতাজাকরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অথচ স্বৈরাচারের কাছ থেকে আমলারা উপর্যুপরি আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় ইতোমধ্যে সাংবাদিকসহ সমাজের অন্য পেশাজীবীরা যে সীমাহীন বৈষম্যের শিকার হয়েছে সেই বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকার বিবেচনায় নেয়নি।

তারপরও আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বা অন্য পেশাজীবীসহ কারুর বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিরোধী নই। কিন্তু এর ফলে যাতে সমাজে বৈষম্য না বাড়ে সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের অন্যান্য অংশীজনের বিষয়টিও গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিতে হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে উল্লেখ করতে চাই, গণমাধ্যমসেবীদের কাজের বৈশিষ্ট্য, দুরূহ ও কষ্টসাধ্যতা বিবেচনায় সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ৪র্থ রোয়েদাদ পর্যন্ত ছিল সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে উন্নত। কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা কূটিল, সংকীর্ণচেতা আমলারা পরবর্তীতে সরকারকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের বেতন-ভাতা পুনঃপৌণিকভাব স্ফীত করেছে। রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ভ হিসেবে খ্যাত সংবাদকর্মীরা রয়েছে বরাবরের মতোই উপেক্ষিত।

আমরা অবিলম্বে সাংবাদিকদের জন্য ১০ বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। যেসব সংবাদ প্রতিষ্ঠান চলমান ৯ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ কার্যকর করেনি সেখানে বকেয়াসহ নবম বেতন বোর্ড চালু এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতনভাতা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *