Breaking News
* গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় কমেছে মৃত্যু, শনাক্ত নামল সোয়া লাখে * আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না: শেখ হাসিনা * ১০ দফা আদায়ে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: ফখরুল * মারা গেছেন পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে আহত ওড়িশার মন্ত্রী * তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিশিষ্টজনদের কথা বলার আহ্বান মির্জা ফখরুলের * কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চাই না : ববি হাজ্জাজ * চলতি শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক বাতিলের দাবি রেজাউল করিমের * বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে অন্যদের বাড়াবাড়ি করার সুযোগ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী * সারদায় প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী * অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে পেরুতে বাস খাদে, নিহত ২৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বাধিক আলোচিত

POOL

বিএনপি সুযোগ পেলে লাখ লাখ মানুষকে মেরে ফেলবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল ক‌রিম।আপনি কি তাঁদের সাথে একমত?

Note : জরিপের ফলাফল দেখতে ভোট দিন

সন্ধ্যা নদীর পারে বসে আছি গোল পাতার ঘরে

12-01-2023 | 06:07 pm
মুক্তচিন্তা

লেখক-সাংবাদিক,গবেষক ও কলামিষ্ট মোঃ মতিউর রহমান সরদার।

ঢাকা: গোল পাতার ঘর দেখার অাগ্রহ নিয়ে গত ২৪/১২/২০২২ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় দাঁড়ালাম বরিশাল সদরের কড়াপুর খেয়াঘাট বাস ষ্ট্যান্ডে।লক্ষ্য গোল পাতার ঘর কোথায় আছে সেই ঘর দেখা এবং মানুষের জীবন যাপন ও কষ্ট বুঝার জন্য।তাই বরিশাল সদরের কড়াপুর খেয়াঘাট বাস ষ্ট্যান্ডে প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলাম।বুঝি কষ্ট ছাড়া কোন প্রকারের দুর্লব ইতিহাস জানা এবং নজির দেখা সম্ভব হয় নয়।সেই ইতিহাস জানা ও নজির হিসাবে গোল পাতার ঘরের দৃশ্য দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে অামি অনেক সময় পর্যন্ত তাকিয়ে আছি।দেখি বরিশাল থেকে একটি মেজিক আসছে এবং মেজিক দেখে হাত তুল্লাম ও মেজিক থেমে গেলো,আর আমি উঠে মেজিকে বসলাম।সংগ্রহ করা সুত্র অনুযায়ী আমি প্রায় আট-দশটি ষ্ট্যান্ড যথাক্রমে- কল্যাণকাঠী-বিনয়কাঠী,গোঘাটা-দাসেরপোল বাজার,নবগ্রাম-হিমানন্দকাঠী,চিন্তাকাঠী পোলের গোরা,কুরিয়ানা বাজার-মাহামুদকাঠী বাজার,সঙ্গীতকাঠী সেতু,আকালম,স্বরুপকাঠী বাজার ( নেছারাবাদ-স্বরুপকাঠী থানা)।এতোগুলো বাস ষ্ট্যান্ড পার হয়ে শেষে আমি আটঘর ষ্ট্যান্ডে নেমে একটি চায়ের দোকানে বসলাম।সেখানে পেলাম আটঘরের স্থানীয় বাসিন্দা জনাব মোঃ আঃ রহমান হাওলাদার-মোঃ বশির উদ্দিন চৌধুরী,মোঃ কালাম বেপারী-মোঃ মানিক মোল্লা-যারা সকলেই আটঘরের স্থায়ী বাসিন্দা।আমি চায়ের দোকানে বসে চা ও পান খেতে-খেতে তাদের সাথে প্রয়োজনীয় আলাপ করে জেনে নিলাম যে,গোল পাতার ঘরের অস্তিত্ব কোথায় পাওয়া যাবে।কারণ,সেই ঘর সোনার বাংলার ইতিহাসের অস্তিত্ব বা অংশ।আমি কোন বিষয়কে ছোট মনে করি না এবং পুরাতন কোন ইতিহাসকে গুরুত্বের বাহিরে রাখি না।আমিসহ অনেকেই আগে গ্রামের প্রায় বাড়িতে গোল পাতার ঘর দেখতাম এবং সেই ঘর ছিলো নির্ভেজাল ও প্রাকৃতিক সৃষ্টির নির্মান।সে ঘর অনেক রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখতো। আজকাল সেই গোল পাতার ঘর দেখা যায় না বল্লেই চলে।তাই মনে চাইলো সেই ঘরের খোঁজ নেওয়া এবং পরিবেশ দেখার।সেই চিন্তা মোতাবেক বরিশাল সদরের অনেকের সাথে আলাপ করে দ্বারনা পেলাম যে,আটঘরের দিকে সেই ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে।তাই প্রাথমিক দ্বারনা অনুযায়ী বরিশাল সদর থেকে আটঘরের উদ্দেশে যাওয়া।সেই অনুযায়ী আমি যথারীতি আটঘরের ষ্ট্যান্ডে নেমে একটি চায়ের দোকানে বসলাম এবং লোকজনের সাথে কথা বলার সময় চা ও পান খেয়ে নিলাম।তাঁরা কোন এক সুযোগে আমার চা ও পান খাওয়ার বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন।দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শেষে আমি উঠে দাঁড়ালাম পিরোজপুর জেলার ইন্দেরহাটে যাওয়ার জন্যে।চায়ের দোকানে বসে চা ও পান যারা খেয়েছি,তাদের সকলের বিল দিতে গিয়ে ব্যার্থ হইলাম।যেহেতু কোন এক সুযোগে চা ও পানের বিল আটঘরের বাসিন্দাগন পরিশোধ করেছেন।যাই হোক আটঘর থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময় তাঁরা আমাকে পুনরায় স্বরণ করিয়ে দিয়ে বল্লেন আপনি একটু সামনে হেঁটে যান এবং সামনে কৌরিখাড়া ফেরিঘাট। আপনি সন্ধ্যা নদীর ফেরি পার হয়ে-ওপারে গেলে খুঁজে খুঁজে লঞ্চ ঘাটে গিয়ে জেনে নিবেন মিজানের গোল পাতার ঘর কোথায়।সেখানেই পাবেন মিজানের গোল পাতার ঘর। আমি সেই অনুযায়ী কৌরিখাড়া খেয়াঘাটে গিয়ে এবং ভাড়া পরিশোধ করে খেয়ায় উঠে বসলাম। আমার মন বলে মৃত্যুর পরে আর সুযোগ পাবি না।তাই শখ পুরণ করে লও।লেখার শখ তো আছে এবং সাথে ছবি তোলার শখও আছে।সুতরাং খেয়ায় বসে কিছু ছবি তুলে নিলাম। সন্ধ্যা নদী পার হয়ে গিয়ে ইন্দেরহাট খেয়াঘাটে নেমে পরলাম। আমার বাড়ি বরিশাল সদরে হলেও,বরিশাল সদরসহ পাশপাশের অনেক জেলা বা স্থান দেখার ভাগ্য হয়নি।যেহেতু বরিশাল থাকার ভাগ্য তেমন হয়নি।এমতাবস্থায় সন্ধ্যা নদী ও পানির দিকে তাকিয়ে সামান্য ঢেউ খেলা দেখে নিলাম।সন্ধ্যা নদী পার হয়ে শেষে উত্তর কৌরিখাড়া ইন্দেরহাট খেয়াঘাট নেমে রাস্তায় প্রবেশ করতে একটি চায়ের দোকান পেলাম এবং সেখানে বসে চা ও পান খাওয়ার সুযোগে দোকানদারের কাছ থেকে জেনে নিলাম-মিজানের গোল পাতার ঘর কোথায়।তিনি বল্লেন সোজা হেঁটে লঞ্চঘাট চলে যান সেখানে মিজানের গোল পাতার ঘর আছে। আমি হাঁটতে হাঁটতে লঞ্চ ঘাটের কাছে গিয়েও ভুল করে জিজ্ঞেস করলাম খেয়াঘাট কোথায়।তখন লোকজন আমাকে সেই রাস্তাই দেখিয়ে বলছেন,এই রাস্তায় চলে যান।ঠিকানা বলতে ভুল করার কারণে, আমি আবার উল্টো পথে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম সেই উত্তর কৌরিখাড়া ফেরিঘাটে,যেখানে প্রথমে নেমেছিলাম। আমি ইন্দেরহাট প্রথমে নেমে যেই দোকানে চা ও পান খেয়েছিলাম সেই দোকানেই আবার চা ও পান খেয়ে জিজ্ঞেস করে নিলাম।জানতে চেয়ে বল্লাম মুরুব্বী এই ঘাটে নেমে প্রথমে আপনার দোকানে চা ও পান খেয়ে মিজানের ঘর কোথায় জানতে চাইলাম,তখন আপনি কি আমাকে লঞ্চ ঘাটের কথা বলেছিলেন।তিনি উত্তরে বল্লেন হ্যা।ভুলের মাশুল দিতে আবার চল্লাম সেই লঞ্চ ঘাটের দিকে।না চেনা ও না জানার কারনে যা ঘটে,তাই ঘটেছে আমার বেলায়।এবার আর ভুল হয়নি।লঞ্চঘাটে গিয়ে সেখানে একটি হোটেলে জানতে চাইলাম মিজানের ঘর কোথায়,তা জেনে নিলাম,অার বলে গেলাম যে,রিজিক থাকলে যাওয়ার সময় আপনার হোটেলে ভাত খেয়ে যাবো।হোটেল মালিক সন্ধ্যা নদীর পার থেকে ১০/১২ হাত ভিতর দিয়ে একটি চিকন কাঁচা রাস্তা ভিতরে চলে গেছে,সেই রাস্তা দেখিয়ে বল্লেন ভিতরে মিজানের ঘর, আপনি এই রাস্তায় চলে যান।দেখানো রাস্তার ২০/২৫ হাত এবং নদীর পার ঘেঁষে ভিতরে গিয়ে একেবারে সন্ধ্যা নদীর পাড়ে ৭/৮ টি গোল পাতার ঘর পেলাম।গোল পাতার ঘর দেখে আনন্দে মন ভরে গেছে।লোকজন দেখে বল্লাম মিজানের ঘরখানা কোথায়।উত্তরে কেউ বল্লেন এই ঘর।আমি ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখি গোল পাতার ঘর ঠিক আছে,কিন্ত উপরে লাউ গাছ । যার ফলে গোল পাতা দেখা যায় না এবং আকর্ষন হয় না।লোকজনকে বল্লাম গোল পাতা দেখা যায় এরকম ঘরের দরকার।তারা বল্লেন একটু সামনে যান গোল পাতার ঘর আছে।পেলাম একটি গোল পাতার ঘর।তবে ঘরের অর্ধেকের অংশে সিম গাছ আছে এবং ঘরের অর্ধেকের অংশে গোল পাতা।তবুও খুশি যে,গোল পাতার ঘরতো পেয়েছি,যা আমার সৌভাগ্য।মহান আল্লাহপাক আমাকে নিরাশ করেন নাই।গোল পাতার ঘরতো পেয়েছি! আমি অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলাম মোঃ শহীদুল ইসলাম,পিতা মৃত্যু মোঃ আবদুল আলী,গ্রামঃ দক্ষিন কৌরিখাড়া,পোঃ উত্তর কৌরিখাড়া,(থানাঃ নেছারাবাদ,স্বরুপকাঠী),ইন্দেরহাট,পিরোজপুর।ঘরে প্রবেশের সাথে সাথে শহীদ মিয়া টেবিল পরিস্কার করে দিলেন এবং তাঁর বড় মেয়ে সামনে পিঠা এনে দিলেন। আমি তৃপ্তিসহকারে পিঠা খেয়ে নিলাম।দেখলাম ৭/৮ টি পরিবারের থাকার ঘর এক সারিতে এবং সরকারি জমিনের উপরে ও সন্ধ্যা নদীর পারে।স্থানঃপাটিকেলবাড়ি,নেছারাবাদ,পিরোজপুর,সন্ধ্যা নদীর পারে।চারোদিকে তাকিয়ে দেখে বুঝে নিলাম ভয়বাহ ঝড়-তুফান হলে বা নদীর পার ভাংগনের কবলে পরলে গোল পাতার সব ঘর মিশে যাবে সন্ধ্যা নদীর বুকে।সন্ধ্যা নদীর পারের ঘর ছাড়া তাদের আর কোন জমিন নেই।টয়লেট ও গোসল করার জায়গারও সমস্যা আছে। আমি বলেছিলাম শহীদ ভাই প্রস্রাব করবো।তখন নদীর পারের খোলা জায়গা এবং পশ্চিমদিক দেখিয়ে দিয়ে বল্লেন,এখানে প্রস্রাব করেন।সুতরাং পশ্চিমদিকের মান বজায় রেখে বাধ্য হয়েই খোলা জায়গায় প্রস্রাব করলাম।তাই বুঝে নিলাম অনেক মানুষ আধুনিক উন্নয়নের দিক থেকে বহু দূরে এখনও পিছিয়ে রয়েছেন।কেউ শখে বা অস্তিত্ব ধরে রাখার অথবা প্রয়োজনে গোল পাতার ঘর নির্মান করেছেন এবং পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।কেউ গরু-ছাগল,হাঁস-মুরগী রাখার জন্য গোল পাতার ঘর নির্মান করেন।কিন্ত আগের তুলনায় গোল পাতার ঘর কোন হিসাবেই পরে না।তবুও গোল পাতার ঘর ও অস্তিত্ব বিলিন হয়নি বুঝলাম এবং নজির দেখলাম। আপনারা অবশ্যই বুঝতে পারছেন গোল পাতার ঘর খুঁজে বের করতে কতো কষ্ট করতে হয়েছে।কারো কাছে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে,কারো কাছে গুরুত্ব পাবে না।কিন্ত তাই বলে জানার ও দেখার আগ্রহ থেকে পিছিয়ে থাকা ঠিক হবে না।ভবিষ্যতে গোল পাতার ঘর বা পাতা অনেকেই চিনবে না বা জানবে না।অথচ তাদের অনেকের পূর্বসূরী গোল পাতার ঘরেই বসবাস করেছেন। আজ শহীদ মিয়াসহ যারাই গোল পাতার ঘরে বসবাস করছেন,তারা শখে নয়,বরং পরিবার নিয়ে বসবাস করার একান্তই প্রয়োজনে গোল পাতার ঘর নির্মান করে বসবাস করছেন।সন্ধ্যা নদীর পারে ৭/৮ টি পরিবার সন্তান নিয়ে ছোট ছোট ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন,যাদের ভবিষ্যত অন্ধকার।শহীদ মিয়ার এক মেয়ে বিবাহিত ও তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে বিবাহিত।তারা সকলেই পৃথক থাকে।শহীদ মিয়া ঘাটে কাজ করেন এবং বয়স প্রায় সত্তরের বেশি হবে।দেশে ঘরে ঘরে প্রতিনিধি আছে।তবে চোখ ও বিবেক ঘুরিয়ে মানুষের জীবন যাপন দেখার ও উন্নয়নমূলক কাজ করার মতো এবং সমস্যা বুঝার মতো প্রতিনিধির বড় অভাব।বিদায় নিয়ে আসার সময় আমি মিজান মিয়ার ঘরেও প্রবেশ করে দেখলাম পুরাতন গোল পাতার ঘর এবং নষ্ট হয়েছে।তাই ভিতর দিয়ে প্লাস্টিক কাগজ দিয়ে বৃষ্টির পানি ও শিশির ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। আমরা সকলে উপরের এবং উন্নয়নসীল মানুষ ও বাড়ি-ঘরের দিকেই তাকাই।এর ফলে আসল উন্নয়নের কপাল পুড়ে হয় ছাই।এই অসহায় পরিবারগুলো সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। আসার সময় যে হোটেলে খাবো বলেছিলাম,সে হোটেলে রিজিক নেই,তাই খাওয়া আর হলোনা।লেখক-সাংবাদিক,গবেষক ও কলামিষ্ট।

কমেন্ট

<<1>>

নাম *

কমেন্ট *

সম্পর্কিত সংবাদ

© ২০১৬ | এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি | dainikprithibi.com
ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট - মোঃ রেজাউল ইসলাম রিমন