Breaking News
* গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় কমেছে মৃত্যু, শনাক্ত নামল সোয়া লাখে * আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না: শেখ হাসিনা * ১০ দফা আদায়ে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: ফখরুল * মারা গেছেন পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে আহত ওড়িশার মন্ত্রী * তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিশিষ্টজনদের কথা বলার আহ্বান মির্জা ফখরুলের * কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চাই না : ববি হাজ্জাজ * চলতি শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক বাতিলের দাবি রেজাউল করিমের * বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে অন্যদের বাড়াবাড়ি করার সুযোগ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী * সারদায় প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী * অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে পেরুতে বাস খাদে, নিহত ২৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বাধিক আলোচিত

POOL

বিএনপি সুযোগ পেলে লাখ লাখ মানুষকে মেরে ফেলবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল ক‌রিম।আপনি কি তাঁদের সাথে একমত?

Note : জরিপের ফলাফল দেখতে ভোট দিন

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শোডাউনের প্রস্তুতি

29-11-2022 | 11:46 am
মহানগর

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মন্ত্রী, এমপি, হুইপসহ নেতাকর্মীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মন্ত্রী, এমপি, হুইপসহ নেতাকর্মীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নগরী ও নগরীর বাইরে সংসদীয় আসনগুলো থেকে কে কার চেয়ে বেশি লোকের উপস্থিতি বা সমাগম ঘটাতে পারবেন তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রের কাছে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে চান তারা। জানান দিতে চান নিজ নিজ জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তা। এর মধ্য দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় টিকিটটিও নিশ্চিত করার সুযোগ নিতে চান তারা। আগামী ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠেয় এ জনসভা কার্যত নির্বাচনি জনসভায় রূপ নেবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৮ মার্চ এই মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


এদিকে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে গিয়ে জনসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে কিনা, দলের অভ্যন্তরের গ্রুপিং-কোন্দলের প্রভাব জনসভার মাঠে পড়বে কিনা তা নিয়েও কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জনসভা মাঠ থাকবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায়। মাঠের বাইরেও চারদিকে অন্তত এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকবে সিসি ক্যামেরা। জনসভার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রোববার বিকাল আড়াইটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত টানা প্রায় তিন ঘণ্টা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সভা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেবা সংস্থা, সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরাও এতে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ সভা থেকে সবাইকে সুনির্দিষ্ট বার্তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দশক পর আবার পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। জনসভায় ২০ লাখ লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই মাঠে গত ১২ অক্টোবর বিএনপি বিভাগীয় গণসমাবেশ করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে ওই গণসমাবেশে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। সমাবেশ থেকে সরকার পতনের এক দফা দাবি তোলা হয়। মূলত সেই সভার উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য এক মাস আগে থেকেই ইউনিট থেকে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন কিংবা থানা পর্যন্ত কর্মিসভা, বর্ধিত সভা ও প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে নগরীতে একযোগে শুরু হয়েছে মাইকিং। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলছে। আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। নগরীতে চারটি ও জেলায় ১২টি সংসদীয় আসনের এমপিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার এসব আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনসভা সফল করার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়টি দেখভাল করছেন সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি প্রতিটি ওয়ার্ড এবং থানা চষে বেড়িয়েছেন এক মাস ধরে। কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভাও হয়েছে দফায় দফায়। যে কোনো মূল্যে জনসভা সুশৃঙ্খল ও সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করে সফল করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভাটি অত্যন্ত অর্থবহ হবে। এই জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও দিকনির্দেশনা থাকবে। তাই দলীয় নেতাকর্মীসহ চট্টগ্রামের মানুষ এই জনসভার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। যে কোনো মূল্যে আমরা জনসভা সফল ও সার্থক করতে বদ্ধপরিকর।’

জানা যায়, নগরীর বাইরে ১২টি সংসদীয় আসনের প্রত্যেকটি থেকে গড়ে ১০-১৫ হাজার লোক সমাগম ঘটানো হবে। নগরীর আশপাশের সংসদীয় এলাকা থেকে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার লোক আনার টার্গেট রয়েছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে ১০-১২ হাজার করে লোক আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনাতে মাঠে এবং মাঠের বাইরে লাগানো হবে ৩০০ মাইক। পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে নৌকার আদলে। জনসভা সফল করতে রাঙ্গুনিয়া থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং নগর থেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও পৃথকভাবে নিজ নিজ নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বিপুল উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

পটিয়া সংসদীয় আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী জানান, তার এলাকা থেকে অন্তত ২২ হাজার লোক জনসভায় যোগ দেবেন। সবার পরনে থাকবে লাল গেঞ্জি। ব্যান্ড-বাদ্য নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও থাকবে সাধারণ মানুষ। রোববার সন্ধ্যায়ও জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।

রাউজানের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০ হাজার লোক জনসভায় যোগ দেবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফজলে করিম চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী সুমন দে বলেন, ‘রাউজান থেকে নেতাকর্মীরা প্রথমে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে আসবেন। সেখান থেকে এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বে জনসভায় যোগদান করবেন। জনসভায় যোগদানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকবে। তবে কী সেই ভিন্নতা তা এখনই বলা যাবে না।’

এছাড়া রাঙ্গুনিয়া, মীরসরাই, আনোয়ারা, সাতকানিয়া থেকেও জনসভায় যোগদানের জন্য নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলীয় এমপিরা। পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, তার জেলাধীন ৮টি উপজেলার প্রত্যেকটি থেকে ১০-১২ হাজার এবং শহরের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বা সংসদীয় এলাকা থেকে অন্তত ২০-২২ হাজার লোক সমাগম ঘটানোর জন্য কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। তাই এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় জনসভায় দলীয় এমপি কিংবা মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ অবস্থান ও জনপ্রিয়তার জানান দিতে পারবেন। এ সুযোগ নিশ্চয় কেউ হাতছাড়া করতে চাইবেন না। তবে এটি করতে গিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। রোববার জনসভার শৃঙ্খলার বিষয়ে সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন সংস্থা, সেবা সংস্থা ও দলের নেতাদের নিয়ে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাতেও নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

কমেন্ট

<<1>>

নাম *

কমেন্ট *

সম্পর্কিত সংবাদ

© ২০১৬ | এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি | dainikprithibi.com
ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট - মোঃ রেজাউল ইসলাম রিমন