২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব করব: তারেক রহমান
ঢাকা : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। এতে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান ‘এভিয়েশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশজুড়ে একটি ‘জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান এবং ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ -এই মূলনীতিকে ভিত্তি করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র পাঁচদিন আগে এই রূপরেখা তুলে ধরা হলো।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’, তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে এই নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে।
বিমান পরিবহন ও এভিয়েশন পরিকল্পনা:
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বিমান পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড তৈরি করা হবে। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহর এবং পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোকে সংযুক্ত করতে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নিৰ্মাণ করা হবে।
নিরাপদ কার্গো সেবা নিশ্চিতকরণ:
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক ও যাত্রী হাবে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে বলা হয়, একীভূত কার্গো ট্র্যাকিং, বুকিং ও রুট পরিকল্পনার জন্য ‘জাতীয় লজিস্টিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ চালু করা হবে। বিমানবন্দরগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা হবে।
হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ:
দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপদ, সম্মানজনক ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা এবং টিকিট কালোবাজারি, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ রোধ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে বিএনপির ইশতেহারে।
বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর:
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি লাভজনক ও প্রতিযোগিতা সক্ষম সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এর পরিচালনা কাঠামো, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সেবার মানে কাঠামোগত সংস্কার আনা হবে। আন্তর্জাতিক রুটে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
বেসরকারি এয়ারলাইন্স সমূহকে নীতিগত সহায়তা:
বেসরকারি এয়ারলাইনসমূহকে নীতিগত সহায়তা প্রদান করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। ইশতেহারে আরও বলা হয়, এভিয়েশন প্রযুক্তি এবং কার্গো খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং এই সেক্টরে দুর্ঘটনা রোধে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এভিয়েশন শিক্ষার গুরুত্বারোপ:
দেশের এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং দেশীয় এভিয়েশন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।





























