• ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬:০৮
S M Tajul Islam মার্চ ৩১, ২০২৬

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক দূর করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা : স্বাধীনতার ঘোষণা ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক দূর করে সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখনো স্পষ্টভাবে জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়নি। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কাল নতুনভাবে গবেষণা ও সংকলনের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলেক্ষ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল মূলত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে। সেই নির্বাচনে পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট দিয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের পরও ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চলছিল।

তবে ২৫ মার্চের গণহত্যার পর জনগণের মধ্যে যুদ্ধের অনিবার্যতা তৈরি হয়।

‘ওই পরিস্থিতিতে একজন স্বাধীনচেতা বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের দুটি ধাপ ছিল– একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যটি সশস্ত্র যুদ্ধ।

রাজনৈতিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন শেখ মুজিব আর যুদ্ধের অনিবার্যতা তৈরি হলে নেতৃত্ব দেন জিয়াউর রহমান।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাপ্রবাহ, কালুরঘাটের ঘোষণা এবং ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকারের ঘোষণার ধারাবাহিকতা–যেখানে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন–এসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একার নয়। এটি জাতির ইতিহাস, যা প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় সংসদ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখেন।

পরে খালেদা জিয়ার আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক ধারা আরও শক্তিশালী হয় এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়, এটি জাতির সম্পদ। তাই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম, গবেষক ও সচেতন নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারসহ সংগঠনের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *