রাজনীতির আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র খালেদা জিয়া: কাদের গনি চৌধুরী
ঢাকা : সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়াকে আমি মনে করি বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। তার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক যুগের অবসান নয়, জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
বাংলাদেশের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, উদারচিত্ত, বিভাজনের উর্ধ্বে ওঠা, দূরদর্শী, নৈতিক দৃঢ়তা সম্পূর্ণ নেতৃত্বের, ঠিক সেই সময়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। খালেদা জিয়া সাহস, দৃঢ়তা, দেশপ্রেম, নীতি নিষ্ঠ নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পুরো জীবনটাই ছিল সংগ্রামের। তিনি কর্তৃত্ববাদ এবং স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবিচল এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অটল ছিলেন সবসময়।
নির্যাতন অপমান ব্যক্তিগত যন্ত্রণা, দীর্ঘদিন কারাবাস, এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা, গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসায় বাধার পরেও তিনি নীতি থেকে সরে আসেননি। কখনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থকে রাষ্ট্র বা জনগণের কল্যাণের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি। তার কাছে সবার ওপরে ছিল রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণ।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার সংগ্রাম শুধু রাজনৈতিক নয়, গণতন্ত্র, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, জনগণের মর্যাদার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার এক জীবন্ত দলিল।
দমন নিপীড়নের মুখেও তিনি কখনো নতি স্বীকার করেননি।
বেগম খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে সেরা সমর্থিত ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিনের সরকার মাইনাস টু ফর্মুলার আওতায় বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে দেশের বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এ দেশেই আমি মরতে চাই। সেদিন ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিনের সঙ্গে আপস করলে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন, তার ছোট ছেলেকে হারাতে হতো না, বড় ছেলেকে এত নির্যাতন সইতে হত না, তাকে বন্দিত্ব বরণ করতে হতো না। তিনি তার সতের কোটি সন্তানকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে চলে যেতে চাননি।
দেশপ্রেমের এমন নজির তিনি শেষ পর্যন্ত বজায় রেখেছিলেন। তিনি ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিনের সরকার, শেখ হাসিনার সরকারের কাছে বিন্দুমাত্র মাথা নত করেননি।
যে জীবন অন্যের জন্য উৎসর্গিত, যে জীবন মহৎ কর্মে পরিপূর্ণ সেই জীবনের সমাপ্তি নেই, খালেদা জিয়া তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। যতদিন লাল সবুজের পতাকা থাকবে ততদিন খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। যতদিন স্বাধীন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন বলেও তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইউব ভুইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফানুল হক নাহিদ, সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে এম মহসীন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি খাইরুল বাসার।





























