• ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩:১৭
S M Tajul Islam এপ্রিল ৯, ২০২৬

বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে ‘রাজনৈতিক পরিবারের প্রাধান্য’—না যোগ্যতা, প্রশ্ন সংসদে

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যম থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উঠেছে ‘যোগ্যতার চেয়ে বংশ পরিচয় প্রাধান্য পেয়েছে কি না’—এমন প্রশ্ন। সংসদে এক সদস্য বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ঘোষিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে জায়গা পাওয়া চারজনই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তারা হলেন— মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু এবং ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তারা যথাক্রমে মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ববি হাজ্জাজ–এর পরিবারভুক্ত।

সমালোচনার মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই চারজনের মধ্যে তিনজন আগে থেকেই ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা বিভিন্ন ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে বিসিবির কাঠামোর অংশ ছিলেন। গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে তামিম ইকবাল-সমর্থিত প্যানেল থেকেও তারা পরিচালক প্রার্থী হয়েছিলেন, যদিও পরে নির্বাচন বর্জন করেন।

বিসিবির কাউন্সিলর তালিকা অনুযায়ী, মির্জা ইয়াসির আব্বাস আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব এবং ইসরাফিল খসরু এক্সিম ক্রিকেটার্স ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেন। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান জানান, বৈধ কাউন্সিলর হওয়ায় তাদের অ্যাডহক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেন, অ্যাডহক কমিটি সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নির্বাচন আয়োজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তিনি মনে করেন, বিতর্ক না বাড়িয়ে সংস্কার কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, “যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে, তারা আগেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই এ নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্ক হওয়া ঠিক নয়।”

অন্যদিকে, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান বলেন, “কেবল রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে কাউকে বিচার করা ঠিক নয়। তারা ক্রিকেটের কাউন্সিলর হিসেবেই এসেছেন। ভালো কাজ করার সুযোগ তাদের দেওয়া উচিত।”
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কাঠামো কতটা জরুরি—সেই বিতর্ক এখনো থামেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *