• ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার রাত ১:২৩
S M Tajul Islam মার্চ ২, ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় কমেছে ১২ শতাংশ

ঢাকা : চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। একক মাস হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় কমেছে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। বৈশ্বিক শুল্ক অস্থিরতা, প্রধান বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে এ পতনের কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সোমবার (২ মার্চ) প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের অষ্টম মাস ফেব্রুয়ারিতে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৪৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই মাসের ৩৯৭ কোটি ৩১ লাখ ডলারের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ কম।

জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ।
সামগ্রিক হিসাবে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৯০ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছর শুরু হয়েছিল ইতিবাচক ধারায়।
জুলাই মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৪৭৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি ছিল। তবে আগস্ট থেকে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় পড়ে। আগস্টে আয় হয় ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, কমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার আয় হয়, কমে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

অক্টোবরে আয় দাঁড়ায় ৩৮২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার, কমে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। নভেম্বরে ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ ডলার আয় হয়, কমে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ডিসেম্বরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে, ওই মাসে আয় কমে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে যায় ৩৯৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলারে। জানুয়ারিতে আয় হয় ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় সামান্য কম।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের আয় কমার কারণেই সামগ্রিক রপ্তানিতে বড় প্রভাব পড়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৮১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ কম। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ খাত থেকে আয় ছিল ৩২৪ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

অর্থবছরের আট মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারিতে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৫৬ শতাংশ এসেছে পোশাক খাত থেকে। নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক কমেছে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

এ ছাড়া কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল খাতে সামান্য পতন দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির পরিবর্তন বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। গত বছর শুল্ক কার্যকরের আগে জুলাই মাসে অনেক রপ্তানিকারক আগাম পণ্য জাহাজীকরণ করায় ওই মাসে প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। পরে শুল্ক কার্যকর হওয়ায় অর্ডার ও সরবরাহে প্রভাব পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ ও পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ভারত ও চীনের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপের মুখে পড়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে কম দামে পণ্য সরবরাহ করছে, এতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছরে ৫৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আট মাসে অর্জিত আয়ের ভিত্তিতে বাকি চার মাসে লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি ছিল। আগের অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *