• ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬:২৯
S M Tajul Islam এপ্রিল ১৪, ২০২৬

কৃষিভিত্তিক শিল্পে বাড়তি নজর দিতে চায় সরকার: তারেক রহমান

ঢাকা : কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে বাড়তি নজর দিতে চায় সরকার। পাশাপাশি ভোগ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে চায়। এর মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এসব বিষয়ে করণীয় ও পরামর্শ শুনতে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারকদের সঙ্গে গতকাল সোমবার বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি দ্বিতীয় বৈঠকে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষি উৎপাদনে বাড়াতে বড় আকারের খামার প্রয়োজন। এজন্য সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন তারা। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে দ্রুত সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

জানা গেছে, তিনটি গ্রুপে ভাগ করে ১২টি ব্যবসায়ী গ্রুপের ১৫ জন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সিইও পারভেজ সাইফুল ইসলাম, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান ও পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল মামুন, কাজী ফার্মসের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান ও পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের এমডি তামারা হাসান আবেদ এবং সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের সহযোগী পরিচালক আজিজুল হক।

আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের চেয়ারম্যান এস কে শামীম উদ্দিন, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সিইও সৈয়দ জহুরুল আলম, লাল তীর সিডসের পরিচালক তাজওয়ার এম আউয়াল, প্যারাগন লিমিটেডের এমডি মশিউর রহমান, নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি আমিনুল ইসলাম এবং টি কে গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার ও পরিচালক তারিক আহমেদ।

উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানো প্রধান লক্ষ্য জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, কৃষির উৎপাদন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কোনো সমস্যায় পড়ছেন কিনা এবং কী ধরনের সহায়তা লাগবে– এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে অনেকে দেশে সূর্যমুখী ও বাদাম চাষ বাড়ানোর দিকে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমের ফলন বাড়িয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির করার কথা বলেছেন। মসলা আমদানি কমাতে দেশেই মসলার উৎপাদন বাড়ানো এবং তা প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির উপায় খুঁজতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্র জানায়, ভোগ্যপণ্যে দেশকে যেসব ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে কীভাবে দ্রুত এগোনো যায় এবং দেশের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানো যায়, সেগুলো শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা, ভুট্টা চাষ এবং আমের ফলন বাড়িয়ে রপ্তানি করা এবং মসলা উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে কোনো অব্যবহৃত জমি থাকলে, সরকার তা দিতে প্রস্তুত। সভায় উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উত্তরবঙ্গের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বন্ধ সুগার মিলগুলো চালু করা এবং সেখানে নতুন শিল্প করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে। আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মজুত সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভুট্টা সংরক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।

প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, সভায় তিনি পোলট্রি, দুগ্ধ এবং প্রণিসম্পদ খাতের সংকট নিয়ে কথা বলেন। তিনি খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রতিটি ফার্মকে নির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালার আওতায় আসা জরুরি। এ ছাড়া বিদেশ থেকে ভুট্টা আমদানি কমাতে দেশের খাস জমিতে বড় বড় ফার্মের মাধ্যমে চাষাবাদ প্রয়োজন।

উৎপাদন খরচ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) উৎপাদনের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত কথা হয়। কোল্ড স্টোরেজ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সহজলভ্যতার দাবি জানান উদ্যোক্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশনা
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন। কিছু সমস্যার সমাধানে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা এ সংলাপকে অত্যন্ত আন্তরিক ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ছয় মাস অন্তর এ ধরনের আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী জানান, ব্যবসায়ীরা চাইলে এর আগেও যে কোনো সময় আলোচনা হতে পারে।

আহসান খান চৌধুরী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী বেশ আন্তরিক। তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার অর্ধেকও যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলেও অনেক কিছু হবে। ব্যবসায়ীরা আশা করে না যে, সব কিছু রাতারাতি বদলে যাবে। তবে কিছুই যদি না বদলায়, তাহলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান কিছু হবে না। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানকে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *