কাল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন: ঘরে বসেই মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন নারীরা
ঢাকা : নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু হচ্ছে যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এ প্রকল্পের আওতায় পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী প্রধান প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড একটি বড় সাহসী পদক্ষেপ। মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ও সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরির লক্ষেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া:
পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, উপকারভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়নি।
ওয়ার্ল্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT)’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে পরিবারগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ডাবল ডিপিং (সরকারি চাকরি, পেনশন বা একাধিক ভাতা গ্রহণ) বাতিল করে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে এ ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
কী থাকছে ফ্যামিলি কার্ডে?
দসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। স্পর্শবিহীন
(Contactless) চিপ সম্বলিত এই কার্ডে কিউআর কোড (QR Code) এবং এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী। সাধারণত প্রতি পরিবারের ৫ জন সদস্যের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে।
কারা পাবেন না এই কার্ড?
পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী হলে এ কার্ড পাবেন না। এছাড়া পরিবারের বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে তারা এ ভাতার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
অতীতে বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এবার তা দূর করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে। ফলে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই নারীরা ঘরে বসে সরাসরি সরকারের সহায়তা পাবেন। পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
বাজেট বরাদ্দ:
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে উপকারভোগীদের দেওয়া হবে এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন ও কার্ড প্রস্তুতসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে। এরই মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ প্রকল্পের গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।





























