Breaking News
* 'ফিলিস্তিনি এক যুবকের মাথায় গুলি করলো ইসরাইল সেনা' * 'গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মৃত্যু দুই হাজার ৩৩০' * 'ফতুল্লায় চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা' * 'মিয়ানমারে স্থানীয় এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২' * 'বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার' * 'করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট সারাবিশ্বের আতঙ্ক' * 'লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়লো' * 'পুতিন-বাইডেনের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত' * 'গণমাধ্যমকর্মীদের ৪৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে' * 'সরকার একটা ঘটনার পেছনে আরেকটি প্রসঙ্গ দাঁড় করিয়ে দেয়'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বাধিক আলোচিত

POOL

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আপনি কি তার সাথে একমত?

Note : জরিপের ফলাফল দেখতে ভোট দিন

'পারিবারিক কলহের কারণেই স্বামীকে ৬ টুকরো করে লোহমর্ষক হত্যাকাণ্ড'

01-06-2021 | 05:50 pm
অপরাধ

রাজধানীর মহাখালী, বনানী ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আলাদা আলাদা এলাকা থেকে ৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঢাকা : রাজধানীর মহাখালী, বনানী ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আলাদা আলাদা এলাকা থেকে ৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার কারণ উদঘাটনে মাঠে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। এরপর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক নারীকে।

গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম ময়না মিয়া। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। আর ঘাতক তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। পারিবারিক কলহের কারণেই ঘটে লোহমর্ষক ওই হত্যাকাণ্ড।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশীদ।

হারুন অর রশীদ বলেন, তদন্তে নেমে ডিবি নিহতের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। নিহত অটোরিকশাচালক ময়না মিয়া দুটি বিয়ে করেছিলেন। ঘাতক ফাতেমা খাতুন তার প্রথম স্ত্রী। ময়না মিয়ার সঙ্গে ফাতেমার মনোমালিন্যের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। তাই ময়না মিয়া বেশিরভাগ সময় দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছেই থাকতেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় প্রথম স্ত্রী ফাতেমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। এমনকি ফাতেমার আয়ের টাকাও নিয়ে যেতেন। সেই টাকা দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অন্য মেয়েদের সঙ্গে তিনি আনন্দ ফুর্তি করে বেড়াতেন। এ কারণেই ময়না মিয়াকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন ফাতেমা। হত্যার পর লাশের বিভিন্ন অংশ তিন থানার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ফেলেন।

এদিকে ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী কয়েকদিন ধরে স্বামীকে না পেয়ে অভিযোগ করেন গুলশান থানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বনানী থানার ৪ নম্বর রোডের একটি অফিস থেকে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

হত্যার পর লাশের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলার বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তার বিবরণে উঠে আসে।

যেভাবে হত্যা করা হয় ময়না মিয়াকে:
পারিবারিক কলহ এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলমান দূরত্ব এই হত্যার কারণ বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত মে মাসের ২০ তারিখ থেকে ফাতেমা খাতুন স্বামী ময়না মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিলেন। ২৩ মে প্রথম বার ময়না মিয়াকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন ফাতেমা। এরপর গত শুক্রবার (২৮ মে) রাতে ময়না মিয়াকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন ফাতেম। ঘুমের ওষুধের প্রভাবে সারাদিন-সারারাত অচেতন থাকেন ময়না মিয়া। পরদিন শনিবার বিকালের দিকে তার ঘুম ভাঙ্গে। এ সময় তিনি স্ত্রীকে গালাগালি করেন এবং মারতে উদ্যত হন। কিন্তু ওষুধের প্রভাবে বিছানায় ঢলে পড়ে যান ময়না মিয়া। এসময় তিনি পানি পানি করে আর্তনাদ করলে স্ত্রী ফাতেমা আবারও পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ফেলেন ময়না মিয়াকে।

শনিবার (২৯ তারিখ) ময়না মিয়া অচেতন হয়ে গেলে ওড়না দিয়ে প্রথমে তার দুই হাত শরীরে সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ফেলেন ফাতেমা। তারপর ময়না মিয়ার বুকের ওপর উঠে ধারালো চাকু দিয়ে তার গলা কেটে ফেলেন। এ সময় ধস্তাধস্তি হয়। ফাতেমার হাতে খামচি ও কামর দেন ময়না মিয়া। ধস্তাধস্তিতে খাট থেকে দুজনেই নিচে পড়ে যান। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যান ফাতেমা। চাকু দিয়ে তিনি শরীর থেকে ময়না মিয়ার মাথা আলাদা করে ফেলেন।

যেভাবে টুকরো টুকরো করা হয় ময়নার লাশ:
রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা ময়না মিয়াকে হত্যার পর সারারাত এভাবেই কেটে যায় স্ত্রী ফাতেমার। পরের দিন রবিবার (৩০ মে) অফিসে না গিয়ে বাসায় বসে স্বামীর দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করেন। প্রথমে দুই হাতের মাংস কাটেন চাকু দিয়ে। পরে হাড় কাটার জন্য ব্যবহার করেন ধারালো দা। এভাবে শরীরকে ছয় টুকরো করা হয়। এই ছয় টুকরোকে আবার তিন ভাগে ভাগ করে আলাদা ব্যাগে ভরা হয়। এর মধ্যে একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগে মাথা, একটি নীল ড্রামে শরীর মূল অংশ এবং হাত-পাগুলোকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকানো হয়। এভাবেই আলাদা আলাদা সময়ে সেগুলোকে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন ফাতেমা।

যেভাবে ফেলা হয় লাশের টুকরোগুলো:
স্বামীকে নিজের করে না পাওয়ার আক্ষেপ এবং নিজের চেয়ে কম সুন্দর এক নারীকে বিয়ে করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ফাতেমা খাতুন। সাথে যোগ হয় স্বামীর অবহেলা ও দুর্ব্যবহার। এসব কারণে হত্যার পরিকল্পনা করেন ফাতেমা। দেহের মূল অংশ ফেলা হয় গুলশান থানার আমতলা এলাকায়, হাত-পা ফেলা হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এবং সর্বশেষ লালব্যাগে করে মাথাটি ফেলা হয় বনানীর লেকে। লাশগুলো ছড়িয়ে ফেলার কারণ হিসেবে ফাতেমা গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাশ ফেললে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, শনাক্ত করাও সম্ভব হবে না। চিরতরে গুম হয়ে যাবেন ময়না মিয়া।

কমেন্ট

<<1>>

নাম *

কমেন্ট *

সম্পর্কিত সংবাদ

© ২০১৬ | এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি | dainikprithibi.com
ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট - মোঃ রেজাউল ইসলাম রিমন