Breaking News
* ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাত প্রার্থীর তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন' * 'ফিলিস্তিনি এক যুবকের মাথায় গুলি করলো ইসরাইল সেনা' * 'গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মৃত্যু দুই হাজার ৩৩০' * 'ফতুল্লায় চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা' * 'মিয়ানমারে স্থানীয় এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২' * 'বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার' * 'করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট সারাবিশ্বের আতঙ্ক' * 'লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়লো' * 'পুতিন-বাইডেনের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত' * 'গণমাধ্যমকর্মীদের ৪৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বাধিক আলোচিত
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাত প্রার্থীর তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন' 'ফিলিস্তিনি এক যুবকের মাথায় গুলি করলো ইসরাইল সেনা' 'বিহারে বিপুল ভারতীয় রুপিসহ এক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলীকে গ্রেফতার' 'ইসলামি বক্তা আদনানের সন্ধান চেয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন আসফ' 'গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মৃত্যু দুই হাজার ৩৩০' 'ফতুল্লায় চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা' 'মিয়ানমারে স্থানীয় এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২' 'বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার' 'আমার বিরুদ্ধে ব্লেম করা হচ্ছে, ঘটনা একেবারেই ভিত্তিহীন : পরীমনি 'করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট সারাবিশ্বের আতঙ্ক'

POOL

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আপনি কি তার সাথে একমত?

Note : জরিপের ফলাফল দেখতে ভোট দিন

বিএনপি কে আরও ৪২ বৎসর সাধনা করতে হতে পারে

27-01-2021 | 03:21 pm
মুক্তচিন্তা

ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপি কে আরও ৪২ বৎসর সাধনা করতে হতে পারে। লেখক- মোঃ মতিউর রহমান সরদার।


ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপি কে আরও ৪২ বৎসর সাধনা করতে হতে পারেঃ প্রিয় পাঠকবৃন্দ অনুগ্রহপূর্বক লেখাগুলোর উপর থেকে শেষ অংশ পর্যন্ত ভাল করে পর্যালোচনা পূর্বক পড়ার মাধ্যমে বুঝে নিবেন। প্রিয় পাঠকবৃন্দ আমরা শহর ও গ্রামের অনেক রাস্তা পথে, মাঠে, বাজারে যখন চলাফেরা করি, তখন কখনও সোজা রাস্তা দিয়ে যেতে হয়, কখনও বাঁকা রাস্তা ঘুরে যেতে হয়, কখনও রাস্তার মাঝখান দিয়ে উঠতে হয়, কখনও রাস্তার মাথা দিয়ে, কখনও রাস্তার পিছন দিয়ে প্রবেশ করতে হয়, কখনও কোণা বা মোড় ঘুরে খাল, নদী, শাকো কিংবা ক্ষেত্র বিশেষ নৌকায় চড়ে বিভিন্ন পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। কি রাজা, কি বাদশা, কি আমির, কি ফকির প্রতিটি মানুষের জীবনেই ইতিহাস থাকে, আর মানব জীবন এমনই হয়। সচেতন কোন মানুষ নিজেকেসহ অনেক মানুষ, সমাজের নানামূখী বিষয় নিয়ে চিন্তা করে, তার ভিতরে কি ইতিহাস আছে এবং কতটুকু অর্জন করতে পেরেছেন তা যাচাই-বাছাই করে থাকেন। সুতরাং জাতীয় বিভিন্ন প্রকারের ইতিহাসে ও নেতৃত্বের মাঝে বিভিন্ন প্রকারের ঘটনা প্রবাহের ইতিহাস থাকে এবং ঘটনাক্রমে অনেক লেখার মাঝে অনেকের নাম ও দায়িত্ব এবং চাহিদার ও বঞ্চিত হওয়ার এবং বঞ্চিত করার বর্ণনাও থাকে। ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি লেখার মাঝেও বিভিন্ন প্রকারের বিষয় নিহিত থাকে এবং চিন্তাশীল মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তাও করেন। শুরুতেই বাস্তবতা স্বীকার করে বলছি, আমি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বা মহান মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম না এবং সে দাবীও করি না। আমার চুল এবং দাঁড়ি পাকা দেখে কেউ কেউ আমাকে প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য এবং এ জন্য তারা প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করবেন। কিন্তু আমি মুক্তিযোদ্ধা না, তারপরেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লিখিয়ে সুবিধা নেওয়া আমার কাছে এক প্রকারের দেশদ্রোহীতামূলক কাজের মত মনে হয়। তবে আমার পিতা মৃত মোঃ সেকান্দার আলী সরদার, গ্রাম: দক্ষিণ কড়াপুর, পোষ্ট: পাঁচগাঁও, থানা: এয়ারপোর্ট, সদর উপজেলা, জেলা-বরিশাল। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি ১৯৭০ দশকে আওয়ামী লীগ কর্তৃক গঠিত কমিটির ১নং রায়পাশা, কড়াপুর ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছেন। তিনি সেই আমলে আওয়ামী লীগ কর্তৃক দেওয়া বিভিন্ন প্রকারের সাহায্য সুষ্ঠভাবে এবং স্বচ্ছতার আলোকে বিতরণ করেছেন, আর তার নামে বিন্দু মাত্র অভিযোগ নেই। তিনি সনদ গ্রহণ করেন নাই এবং সুযোগ-সুবিধা পেয়েও কোন প্রকারের সুযোগ গ্রহণ করেন নাই। নিজের যা ছিল পরিবারসহ তা নিয়ে সুখী ছিলেন এবং অতিরিক্ত বা ত্যাগের বিনিময় উন্নয়নমূলক কোন প্রতিদান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। আমার বয়সের কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয় নাই। তবে পরিবারের অনেকেই সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় ভাতা পাচ্ছেন। যুদ্ধকালীন সময় আমি একেবারে অবুঝ শিশু ছিলাম না, কিছু বুঝ শক্তি ছিল। তাই আমার মনে আছে, পাকিস্তানী ও তাদের দোষরদের নানামূখী নির্যাতন ও অত্যাচারের কথা। আমার পিতা আমাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে আমাকে আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে রেখেছেন, যেহেতু আমি আমার পিতার বড় সন্তান। সুতরাং আমার প্রতি তার মায়া ছিল। তাছাড়া যুবকের কাছাকাছি বয়সে ছিলাম। সুতরাং আমাকে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তথ্য আদান-প্রদানকারী হিসাবে সন্দেহ করে যদি ওরা ধরে নিয়ে যায়, কিংবা হত্যা করে মেরে ফেলে। সেই চিন্তা করে আমার পিতা আমাকে বাড়ীতে না রেখে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতেই এবং দূর দূরান্তের গ্রামে পাঠিয়ে দিতেন বা নিয়ে যেতেন। মনে পড়ে মা-বাবা আত্মীয়-স্বজন মিলে আমাকে ভাল সব খানা খাদ্য খাওয়াতেন। যদি কোন কারণে প্রাণ চলে যায়, সে কারণেই আদর করে খাওয়াতেন। আগে তেমন গভীরভাবে উপলদ্ধি করতে পারি নাই, যা বয়সের বিষয়। কিন্তু এখন অনেক কিছুই উপলদ্ধি করতে পারতেছি এবং উপলদ্ধি করছি। তাই বাস্তবতা তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করছি এবং স্মরণে থাকা, জানা, শোনা ও দেখার বিষয়াদির আলোকে পর্যালোচনা পূর্বক সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করছি, অন্যথায় আমি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবো বলে বিশ্বাস করি। ১৯৭১ সালের আগে ও মহান স্বাধীনতার পরে এবং ১৫ আগষ্ট ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের নামটি ছিল জাতির মুখে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও অন্যান্য বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দের সহযোগীতা এবং মহান মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধে। যা দেশ ও বিদেশের সকলেই কম-বেশী অবগত। আমি গ্রামের ছেলে এবং মহান স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় গ্রামেই ছিলাম। তাই অনেক সংবাদ শোনা, জানা এবং দেখার সৌভাগ্য আমার হয়ে উঠে নাই এবং অনেকেই আমার মত এই সুযোগ পায় নাই। আমার সুযোগ হয় নাই সরাসরিভাবে জিয়াউর রহমানের দেওয়া মহান স্বাধীনতার ঘোষণা। কারো কারো কাছে শুনি, চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়ে জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কারো কারো কাছে শুনি মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের লেখা ঘোষণাপত্র জিয়াউর রহমান সাহেব পাঠ করেছেন। এর মাঝে কি সত্য, কি মিথ্যা, আর বাস্তবতা আছে, তা জানেন একমাত্র মহান বিধাতা। আর সেই সময় যারা সরাসরি নেতৃত্বে এবং যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন তারাও কম বেশী বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত এবং কেউ দেখেছেন, শুনেছেন বা জেনেছেন। ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপি কে কেন ৪২ বছর সাধনা করতে হতে পারে উল্লেখ করে মন্তব্য করছি সে ব্যাখা সামনে রয়েছে এবং তার আগে পরে লেখার মাঝে ভূমিকা থাকে, তাও পাঠকবৃন্দের পর্যালোচনায় নিতে হবে। এবার একটু পিছনের দিকে দৃষ্টি দান করছি। ঐ যে বলেছি লেখার মাঝেও ঘুরা-ফেরার বিষয় আছে। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে মহান বিজয় অর্জিত হয়েছে এবং ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসে আওয়ামী লীগের তথা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়। পাকিস্তানীরা দেশকে ধ্বংসের মাঝে রেখে গেছে, আর কোন দেশে যখন যুদ্ধ হয়, তখন শত্রু পক্ষের লক্ষ থাকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবষ্টেশন, রাস্তা, কার্লভাট, ব্রীজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতসহ ইত্যাদি স্থাপনা ধ্বংস করা। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরে এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ যখন শুরু করে তখন চোরে চুরি করে, দূর্নীতিবাজ দূর্নীতি করে, ধর্ষণকারী ধর্ষণ করে, খুনি খুন করে, লুটেরা লুট করে, দখলদার দখল করে, যার প্রভাব আওয়ামী লীগ তথা তৎকালীন সরকার ও শেখ পরিবারের উপরে পরে। কোন হিসাব তাৎক্ষনিকভাবে কোন মানুষ মিলাতে পারে না। কোন কোন বিষয়ের হিসাব মিলাতে মোটামুটিভাবে সময় লাগে। এক সময় সত্য ও মিথ্যা এবং বাস্তবতা পুরোপুরি না জানলেও মানুষ কাছাকাছি পর্যায় যেতে পারে, যদি কোন বিষয় নিয়ে জানা ও বুঝার চিন্তা করে। যাই হোক ঐ সব কুকর্মের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে খুনি চক্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুসহ শেখ পরিবারকে ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সালে গভীর রাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। এর ফলে ভাল কোন পরিকল্পনা, চিন্তা-চেতনা থাকলেও তা ম্লান হয়ে যায়। ব্যক্তি হিসাবে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাল মানুষ ছিলেন এবং তার নামেও কোন প্রকারের দূর্নীতির অভিযোগ ছিল না এবং তিনি ছিলেন দেশ প্রেমিক, যা দেশের মানুষ ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে স্বীকার করেন। তারপর সিপাহী জনতা মিলে বিপ্লব ঘটিয়ে জিয়াউর রহমান সাহেব কে কারা মুক্ত করেন এবং হ্যাঁ, না ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশে নির্বাচনসহ কোন কার্যক্রমের ভিতরে কম-বেশী ত্রুটি ছিল না, তা বলা যাবে না, এর ভিতরে কি সত্য, কি মিথ্যা তা জানেন একমাত্র মহান বিধাতা এবং যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। কঠিন বাস্তবতা আমরা কেউ স্বীকার করি বা না করি, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। আমরা কেউ বাস্তবতা স্বীকার করি, কেউ স্বীকার করি না। যার জন্য জাতীয় ইতিহাসে স্বচ্ছতা ফিরে আসার পথে বড় বাঁধা। জিয়াউর রহমান কর্তৃক গঠিত দলের নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলের নামের অর্থে বুঝা যায়, দলটি দেশ, জাতি মাটি, মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শিক্ষা, আইন, মানুষ, মানবতাসহ সামগ্রিক উন্নয়নের কথা বলে। এখানে উল্লেখ করে রাখা প্রয়োজন জিয়াউর রহমান সাহেব তিনিও ভাল লোক ছিলেন এবং তার নামেও দূর্নীতির অভিযোগ ছিল না এবং জাতি বলে না। যাই হোক জিয়াউর রহমান সাহেব দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব হাতে তুলে নেন। যে সকল ব্যক্তি দেশ ও জাতির পক্ষে অস্ত্র হাতে তুলে নেন, নেতৃত্ব দেন, কথা বলার মাধ্যমে, লেখার মাধ্যমে এবং প্রকাশের মাধ্যমে অবদান রাখেন, সে সকল মানুষের দ্বারা কখনও খুব একটা খারাপ কাজ সম্ভব হবে, তা আশা করা যায় না। জিয়াউর রহমান সাহেবকেও বেশী দূর যেতে দিল না, তাকেও মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর মত দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী চক্র হত্যা করে। সুতরাং জিয়াউর রহমান সাহেবের ভাল স্বপ্নগুলো ম্লান হয়ে গেল, বাস্তবে পরিপূর্ণরূপে রূপ দান করার সুযোগ মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান সাহেব পেল না। জাতির মধ্য থেকে যারা সচেতন মানুষ তারা অবশ্যই বাস্তবতার আলোকে স্বীকার করেন এই দুই মহৎ ব্যক্তি ভালই ছিলেন, দূর্নীতিমুক্ত ছিলেন। শেষে বাংলাদেশের ক্ষমতা এরশাদ সাহেব গ্রহণ করেন, আর এরশাদ সাহেব কিভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে এবং ভাল-মন্দ মিলিয়ে কোন শাসন আমলে উন্নয়নমূলক কি কি কাজ হয়েছে, সে বিষয় জাতি অবগত। এরশাদ সাহেব দীর্ঘ ৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন এবং ৯ বছরের শাসন আমলে তার অনেক কর্ম লোক মুখে তথা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তার ভাল কর্মগুলো অনেক আঁধারের কর্মের ফলে ঢেকে গেছে। চেষ্টা করেছিল আজীবন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯০ ইং সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন হয়, আর সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, সংগ্রাম করে এবং শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যূত্থান পর্যন্ত অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যে সকল কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ভাগ্যের কোন উন্নয়ন এবং মূল্যায়ণ হয়নি এবং বিএনপি’র পক্ষ থেকে উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। অথচ তাদের কাম্য ছিল স্বাভাবিকভাবে কোন প্রকারের উন্নয়ন খাতে সহায়তা পেয়ে বেঁচে থাকা। বিএনপি পরিপূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দুইবার পালন করলেও এ সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় নাই। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগের আন্দোলন, সংগ্রামের কাছে হেরে গিয়ে বিএনপি পদত্যাগ করে, মাত্র ১৫ দিন ক্ষমতায় ছিল। সুতরাং ১৫ দিনের ক্ষমতাকে ৩ বারের ক্ষমতা বলা ঠিক হবে না। বিএনপি’র ২ বারের ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করেছে দলীয় কিছু দূর্নীতিবাজ, চোর এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন। দু:সময়ের মানুষজন কোন সহযোগীতা পায় নাই, তারা সেই দূরবস্থার মাঝেই জীবন যাপন করছে। বিএনপি’র কিছু সংখ্যক স্বার্থবাদী ও পাপিদের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিশাপের ফলে দল আজ পাপাক্রান্ত হয়েছে। এই পাপাক্রান্ত রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষকে উপকৃত করতে হবে। যারা মহান আল্লাহপাক ও তাঁর বিচারকে বিশ্বাস ও ভয় করেন, তাদেরকেই সত্য মেনে নিতে হবে। ত্যাগী ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা বিএনপি’র জন্য মাঠে নেমে কাজ করার পক্ষে আগের মত উৎসাহিত নাই। তার কারণ তারা মনে করে বিএনপি’র জন্য কাজ করে সহযোগীতা পাওয়া যাবে না, কিছু সংখ্যক স্বার্থবাদী নেতাদের স্বার্থে ব্যবহার হওয়া ছাড়া। তারা বিএনপি’র ত্যাগী ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদেরকে নীতি বাক্য কথা শোনাবে, অন্য দিকে সম্পদের পাহাড় গড়ে নিবে। সাধারণ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি’র কিছু সংখ্যক দূর্নীতিবাজ, স্বার্থপর ও অন্যের উন্নয়নে প্রতিহিংসা পরায়ণকারী নেতার কথা হলো তোমরা কেন পরিবার, পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করবে, তোমরা রাস্তায় ঘুরবে, খেয়ে-না খেয়ে থাকবে, ষ্টেশনে ঘুমাবে, আমাদের জন্য ত্যাগ স্বীকার করবে, জীবন দিবে, কখনও রোদে শুকাবে, রোদে পুড়ে জ্বলবে, কখনও বৃষ্টিতে ভিজবে। তোমরা আমাদেরকে ক্ষমতায় নিবে, আমাদের পকেট ভরাব সুযোগ করে দিবে, তোমাদের পকেট শূন্য রাখবে, ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করবে। সুতরাং দলের নাম ও সংবিধানের আলোকে এবং জিয়াউর রহমান সাহেবের নীতি ও আদর্শের অনুসারী হয়ে তারা কাজ করলো কোথায় ? দলের কতিপয়, প্রতারক বাটপারের কারণে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান পথভ্রষ্টদের তালিকায় পৌঁছে গিয়েছে। বিএনপি’র বর্বর, স্বার্থপর শ্রেণীর নেতাদের কারণে অসংখ্য ত্যাগী সাধারণ কর্মীরা সংসার ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সে সব পরিবারের ছেলে-মেয়েদের অভিশাপ যাবে কোথায় ? অভিশাপে বিএনপি কে এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে, মানুষের কান্নার চোখের বন্যার পানি কোথায় যাবে ? চোরেরা চুরি করে নেওয়া টাকা ব্যয় করে আনন্দ ফুর্তি করছে, ব্যক্তিগত উন্নয়ন সাধন করেছে, সাধারণ ত্যাগী মানুষ শূন্য হাতে ঘুরছে, খেয়ে-না খেয়ে জীবন পাড় করছে, দূর্নীতি করে দূর্নীতিবাজ ধন্য জীবন গড়ছে। গরীব, দু:খী, অসহায় মানুষ ঘর উঠানোর জন্য টিন বরাদ্দ পায় না, কিন্তু কেউ টিন নিয়ে পুকুরে ফেলে রাখছে। গরীব, দু:খী, অসহায়, ক্ষুধার্ত মানুষ বিস্কুট পায় না, অথচ প্রভাবশালীর গৃহ পালিত পশুতে বিস্কুট খাওয়ার সুযোগ পায়। ত্যাগী, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলতে হবে, তোমাদের ত্যাগ ও শ্রমের বিনিময় আমাদের উন্নয়ন হয়েছে, আমরা তোমাদেরকে ঠকিয়ে উন্নয়ন সাধন করেছি, তোমাদের উন্নয়ন আমাদের স্বার্থে ভিক্ষা দাও। এভাবে ক্ষমা চাইতে হবে, তাছাড়া কি অভিশাপ মোচন হবে ? মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় দাওয়া হবে, মানুষের অন্তরের খুঁশি থেকে পাওয়া দোয়া, কিন্তু বিএনপি’র কিছু সংখ্যক স্বার্থপর নেতা ওরা শুধু অর্থ অর্জনের পাশাপাশি অভিশাপ অর্জন করেছে। ধ্বংসের জন্য অনেক পাপীদের পাপ প্রয়োজন হয় না, কিছু সংখ্যক ভয়াবহ পাপীদের কর্মই একটি সংসার, একটি রাষ্ট্র, একটি দল, একটি সংগঠন যথেষ্ট। কিছু সংখ্যক চোর, দূর্নীতিবাজ, নেশাখোর ও মাদক ব্যবসায়ী আছে, তারা তথ্য সংগ্রহ করেন কোন নেতার কি কি অভ্যাস আছে এবং কি পছন্দ করেন। ঐ চক্র সেই নেতার পছন্দ অনুযায়ী তার সামনে সব হাজির করে দেয় এবং নেতার মন জয় করে, অন্যদিকে দলীয় পদ পদবী লাভ করার পাশাপাশি নেতার আশির্বাদপুষ্ট হয়ে থাকে। তারা নেতার পিছনে যা ব্যয় করে তার চেয়ে লাখো গুণে বেশি আদায় করার উদ্দেশ্য নিয়ে এখন থেকেই ব্যয় বহন করে থাকে। ভাল মানুষের স্থান নাই এই দলে। কারণ তাদের কাছ থেকে নেতায় কোন সুযোগ পাবে না। বরং বৃহৎ স্বার্থে নেতার অপকর্মের বিরোধীতা করে থাকেন। সরকারের আশপাশের এবং রাজনৈতিক দলীয় প্রধানের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবীর ব্যক্তিরা যদি ভাল কাজের সুযোগ না দেয়, তবেই সরকার এবং যে কোন রাজনৈতিক দল পড়ে যায় বড় বেকায়দায়। এখন বিরোধী দলের কোন প্রভাবশালী নেতার পিছনে অনেকভাবে স্বার্থপর চক্র বিনিয়োগ করছে এবং ভাল মানুষের বিরোধীতা করছে, যাহাতে ওদের স্থান পাকা ও শক্ত থাকে। তারা আশা করে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, আর ওদের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকারের অপকর্মের জাল বিস্তার করবে, টাকা উপার্জন করবে, ত্যাগীদের হক কেড়ে নিবে, প্রভাবশালী নেতার আশির্বাদপুষ্ট হয়ে অবৈধভাবে নিজ প্রভাব বিস্তার করবে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার সেই আশা যে কবে পূরণ হবে, তা চোরেও জানে না। কিন্তু তবু আশায় আশায় থাকে। বেগম জিয়া আজ ওদের কারণে সাঁজা ভোগ করছে এবং তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে, যা এক প্রকারের সাঁজা ভোগ করা। যারা ভোগ করছে, তারা ক্ষমতায় থাকতেও ভোগ করেছে এবং এখন বিরোধী দলে থেকেও বিভিন্নভাবে উপার্জন করে ভোগ করছে এবং সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ব্যবহার করে আরও ধ্বংস করছে। আর যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে মরছে, তারা মরার পরেও মরছে এবং কতিপয় পাপিদেরকে সহযোগীতা করার ফলে তারা কবরেও জবাবদিহি করছে, করবে। বিবেক অন্ধ, তাই পাপ অর্জন করেছে, যার ফসল নিরীহ, সাধারণ মানুষ ভোগ করে মরছে। এখন দলীয় প্রধানসহ যদি কিছু নেতা থেকে থাকে, যাদের বিবেক খোলা আছে এবং পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় নাই, তাদের উচিত মহান আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমতা চাওয়ার পাশাপাশি ধ্যান-খেলের মাধ্যমে সাধনা করা, তাতে অতীতের ভুলগুলো ধরা পড়বে, এর ফলে যাবে শুদ্ধ হওয়া। তবেই যদি পর্যায়ক্রমে অভিশাপ মোচন হয়। তারপরে যদি যথাপোযুক্ত মনে করেন মহান বিধাতায়, যার পক্ষে ক্ষমতায় নেওয়া এবং ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া কোন বিষয় নয়। এবার চলে যাই আওয়ামী লীগের পর্বে। ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগের সভাপতি, সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতায় এসেই তিনি দলের সকল নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রথমেই বলে দেন, সাধারণ কর্মী যারা আছেন, তারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সুতরাং তাদেরকে মূল্যায়ণ করতে হবে এবং স্বাভাবিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করার মাধ্যমে উন্নয়নের পথে ধাবিত করতে হবে, যা সরকার দলীয় প্রধানের বিশেষ মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা। তিনি এবং দলীয় নেতারা ত্যাগী ও সাধারণ কর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্তদেরকে মূল্যায়ণ ও সহযোগীতা করার ফলে দলের উপরে অভিশাপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে নাই। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতারাও তাদের সাধারণ কর্মীদের উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে রেখেছেন এবং এর পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষ কম বেশী উপকৃত হয় নাই, তাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না এবং দলীয় লোকের নামে কোন প্রকারের অপরাধ প্রমাণিত হলে কম-বেশী বহিষ্কার করা হচ্ছে এবং তিরস্কার পাচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তাদের শিক্ষা, মেধা, যোগ্যতা অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক কৌশলের আলোকে দেশের প্রায় সর্বস্তর গুছিয়ে নিতে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারি, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী দূর্নীতিবাজদেরকেও যেভাবে ধরছেন, আইনের আওতায় নিচ্ছেন, তার নজির অতীতের কোন সরকার ও প্রশাসন দেখাতে পারেন নাই। এখন যদি দূর্নীতিবাজদের টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রের কোন কল্যাণকর কাজে লাগাতে পারে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে পারে, তাহলে সরকারের সফলতা অর্জন হবে। পদ্মা সেতুর কাজ যদি পরিপূর্ণরূপে স্বার্থক হয়, তাহলে জাতির টাকা এবং সরকারের ঝুকি ও ত্যাগ স্বার্থক হবে। অন্যদিকে সরকার দুস্থ মানুষের জন্য পাকা বাড়ী, ঘর নির্মাণ করে দিয়ে, তাদের মান উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তারা এখন ঝুপড়ি ঘরে থাকার সুযোগ নাই। সেখানেও সরকার সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। বিএনপি’র আমলে কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ চলে যেত, মানুষ অসহনীয় কষ্ট পেত, যা চলমান সরকারের আমলে বলতে গেলে লক্ষ করা যায় না। তবে সাধারণ মানুষ বেশী খুঁশি ও উপকৃত হতো, যদি ঘন ঘন গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি না করতো, আর মোবাইলের উপর যদি ট্যাক্স সিমিত হারে বৃদ্ধি করত। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ইত্যাদি যদি সহজ লভ্যে ক্রয় করে উপকৃত হতো। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, গর্ভ ভাতা চালু করা সরকারের মহৎ কাজ। এই খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব ও যথাযথ মানুষকে উপকার করার কর্তব্য পালন করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রযেছে এবং তাদের দায়িত্ব রয়েছে সরকারের কাজে সহযোগীতা করা। এগুলোর বিনিময় কেন টাকা বা বখশিশ নামে ভিক্ষা নেয় ? এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। সরকারি, বেসরকারি যে কোন জায়গায় যে কোন মানুষ যে কোন কাজ করাতে গেলে বা কাজ সম্পাদন করে দিলে টাকা নেয়, তার পরেও কেন বখশিশ নামে ভিক্ষা চাওয়া হয় ? এই অভ্যাস বন্ধ করতে পারলে যে কোন সরকারের এবং জাতির সুনাম বৃদ্ধি পায়। কেজি এবং লিটারের হিসাবে অনেক ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদেরকে ঠকিয়ে টাকা নেয় এবং পরিমানেও কম দেয়। কিছু কিছু ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বে কঠিন আইন প্রয়োগ ও বিচার ঠিকমত হলেই মানুষ উপকৃত হওয়ার পথ খুলে যায় এবং সরকারের সুনাম বজায় থাকবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু কথা বলছি, যেমন মিয়ানমার সরকার বর্বরতা ও মানবতাহীনতার চরম পরিচয় দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে হত্যা করছে, ধর্ষণ করছে, নানাভাবে জুলুম নির্যাতন করে ভিটা, বাড়ী, জন্মভূমি ছাড়া করছে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক পরিচয় দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং মানবতার প্রশ্নে তাদেরকে মাথা গোঁজার ঠাই করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে হয়তো স্থায়ী হবে না। ঐ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যদি তাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশকালে বাধা দিত, তাহলে লাশের পাহাড় বর্ডারে জমা হতো। বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসন সেই অমানবিক কাজ না করে বাংলাদেশের মানুষের মানবতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, যেই কৃতিত্ব শুধু সরকারের নয়, পুরো জাতির। রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার ও প্রশাসন চেষ্টারত। আশা করি রোহিঙ্গাদেরকে সে দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টায় সরকার স্বার্থক হবেন। রোহিঙ্গাদের ইস্যু আজ বিশ্ব ইস্যুতে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত নিয়ে গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করছে, কিভাবে তাদেরকে জন্মভূমিতে পাঠিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা যায় এবং মানব সভ্যতা ফিরিয়ে আনা যায়। রোহিঙ্গাদের বিশাল বোঝা বহন করা বাংলাদেশের জন্য অতি কঠিন বোঝা, যা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ উপলদ্ধি করেন এবং আমাদের সরকারও জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং রোহিঙ্গাদেরকে কিভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়, সেই বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত রয়েছেন। কিন্তু শরীরের জোরে সব কাজ সহজে বাস্তবায়ন করা যায় না। অনেক বিষয় আছে, যা নীতিগতভাবে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে নিতে হয় এবং সেই পথ সৃষ্টি করার জন্য সরকার আন্তরিক। ভুলত্রুটি সকল আমলেই হয়েছে এবং সামনেও যে হবে না, তাও ভাবনার বাহিরে রাখা যাবে না। কিন্তু চোখের নজরে যেগুলো পড়ে, সেগুলো কোন বিবেকবান মানুষ অস্বীকার করতে পারে না বা অস্বীকার করা উচিত না। ক্ষমতার হাত বদল সব সময় হয় এবং পাপের খেসারত কম-বেশী দুনিয়ার উপরেও ভোগ করে যেতে হয়। তিনি কখন কাকে ভাল মনে করবেন এবং কোন স্থানের ক্ষমতায় নিয়ে যাবেন, তিনি কাকে কখন মানুষের জন্য অমঙ্গল মনে করবেন এবং নামাবেন, তা তিনিই ভাল জানেন। সর্বোপুরি স্বীকার করতেই হবে, যার উপরে মহান আল্লাহপাকের বিন্দুমাত্র রহমত থাকে এবং থাকে রাজি-খুঁশি, তাকে সহজে কোন শক্তি ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। তার চেয়ে যাকে তিনি ভাল মনে করবেন না, তাকে কোন শক্তি হাজারও চেষ্টা করেও ক্ষমতায় নিতে পারবেন না, যদি রাজি-খুঁশি না থাকেন মহান বিধাতা। মহান মুক্তিযুদ্ধে মূল নেতৃত্বকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন সাধনা করার মাধ্যমে যখন ২১ বছর পরে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছে, তখন বিএনপি ৪২ বছর পরে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে সে চিন্তাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না চলমান প্রেক্ষাপটের আলোকে। সুতরাং বিএনপি’র দলীয় প্রধানসহ ভাল মানসিকতা সম্পন্ন নেতাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশাপাশি ত্যাগী ও ক্ষতিগ্রস্ত তথা অনুন্নত কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাদেরকে সহযোগীতা দিয়ে উপকৃত করতে হবে, তাতে যদি অভিশাপ মোচন হয়। আর তাদের মুখে যদি হাঁশি ফুটে উঠে, তাহলে বুঝা যাবে অভিশাপ মোচন হয়েছে। সবচেয়ে বেশী দরকার সেই সাধনা করা, যেই সাধনায় সফল হওয়া যাবে। সভা, সমাবেশ বা বিভিন্ন মঞ্চে বসে বয়ান করলে কোন ফল আসবে না। ফল পেতে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, তবে মানুষের দোয়ার দাওয়া পাওয়া সম্ভব। মানুষের দোয়া যখন দাওয়া হিসাবে কাজ করবে, তখন মহান বিধাতার রহমত হিসাবে কাজে আসবে। আশা তখন পূরণ হবে। তিনি দশের দোয়ার ভিতরে কল্যাণ নিহিত বা বিরাজমান রাখেন। কবি, লেখক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক।

কমেন্ট

<<1>>

নাম *

কমেন্ট *

সম্পর্কিত সংবাদ

© ২০১৬ | এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি | dainikprithibi.com
ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট - মোঃ রেজাউল ইসলাম রিমন